খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫
ইসরায়েলের রাজধানী জেরুজালেমে ব্যস্ত এক বাসস্টপে এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়েছে দুই ফিলিস্তিনি বন্দুকধারী। সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) সকালে রামোট জংশন এলাকায় ঘটে যাওয়া এ ঘটনায় ছয়জন নিহত ও অন্তত আটজন আহত হয়েছেন। পাল্টা গুলিতে নিহত হয়েছেন দুই হামলাকারীও।
ইসরায়েলি পুলিশ জানায়, একটি গাড়িতে করে এসে বন্দুকধারীরা যাত্রীদের লক্ষ্য করে গুলি চালাতে শুরু করে। এ সময় ডিউটিতে না থাকা এক সেনা ও এক বেসামরিক নাগরিক সাহসিকতার সঙ্গে পাল্টা গুলি চালিয়ে দুই হামলাকারীকে হত্যা করেন।
হামলায় নিহতদের মধ্যে পাঁচজন পুরুষ ও এক নারী রয়েছেন। নিহত পুরুষদের বয়স ২৫ থেকে ৭৯ বছরের মধ্যে এবং নারীর বয়স ৬০ বছর। স্থানীয় হাসপাতালগুলো জানিয়েছে, আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
ইসরায়েলি গণমাধ্যম হামলাকারীদের পরিচয় প্রকাশ না করলেও ধারণা করা হচ্ছে, তারা পশ্চিম তীরের আল-কুবেইবা ও কাতান্না গ্রাম থেকে এসেছিলেন। ঘটনাস্থল থেকে একাধিক অস্ত্র, গুলি ও একটি ছুরি উদ্ধার করেছে পুলিশ।
প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলেছেন, ‘আমরা একাধিক ফ্রন্টে তীব্র সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে লিপ্ত। শত শত হামলা ঠেকাতে সক্ষম হলেও আজকের ঘটনাটি আটকানো সম্ভব হয়নি।’ তিনি জানান, হামলাকারীদের সহায়তাকারীদের ধরতে পশ্চিম তীরের গ্রামগুলো ঘিরে ফেলা হয়েছে।
ঘটনাটির একটি ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, হঠাৎ গুলির শব্দে নারী-পুরুষ ও শিশুরা দৌড়ে পালাচ্ছে। একটি বাসের কাচ ভেঙে যায় গুলিতে। আহত যাত্রী এস্টার লুগাসি স্থানীয় টেলিভিশনে বলেন, ‘আমি ভেবেছিলাম আমার সময় শেষ হয়ে গেছে। মনে হচ্ছিল আমি যেন অনন্তকাল দৌড়াচ্ছি।’
নিহতদের মধ্যে আছেন ইয়াকভ পিন্টো (২৫), ইসরায়েল ম্যাটজনার (২৮), রাব্বি যোসেফ ডেভিড (৪৩), মরদখাই স্টেইনস্যাগ (৭৯), লেভি ইয়িৎসহাক প্যাশ এবং সারা মেন্ডেলসন (৬০)।
হামলার নিন্দা জানিয়েছেন ইসরায়েলি প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হার্জগ, ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ এবং যুক্তরাজ্যের নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়েভেট কুপার। অপরদিকে, ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের কার্যালয় সব ধরনের সহিংসতার নিন্দা জানিয়েছে। তবে হামাস একে ‘দুই ফিলিস্তিনি যোদ্ধার বীরত্বপূর্ণ অভিযান’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেছে, এটি ইসরায়েলি দখলদারি ও গাজায় চলমান হত্যাযজ্ঞের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া।
বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, গত কয়েক মাসে জেরুজালেমে বড় ধরনের হামলা খুব বেশি হয়নি। তবে গাজায় চলমান যুদ্ধের মধ্যে এই ঘটনা নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। মার্কিন প্রশাসনের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি ও জিম্মি বিনিময় নিয়ে আলোচনার মুহূর্তে এই হামলা সংঘটিত হলো।
খবরওয়ালা/এন