খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫
দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানকে বিএনপি থেকে সর্বশেষ বহিষ্কার করা হয় ২০২২ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি। দল থেকে বহিষ্কৃত হলেও তিনি রাজনীতি থেকে নিজেকে পুরোপুরি সরিয়ে নেননি। বিভিন্ন জাতীয় ইস্যুতে টক শো ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বক্তব্য দিয়ে তিনি নিয়মিত আলোচনায় ছিলেন। এবার জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়ে তিনি নতুন করে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছেন। তাঁর এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে নিজ জেলা কিশোরগঞ্জে সৃষ্টি হয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া।
বীর মুক্তিযোদ্ধা আখতারুজ্জামানের বাড়ি কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদী উপজেলায়। কটিয়াদী ও পাকুন্দিয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত কিশোরগঞ্জ-২ আসন থেকে তিনি বিএনপির মনোনয়নে ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে টানা দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন, তবে সে নির্বাচনে তিনি পরাজিত হন। একসময় তিনি জেলা বিএনপির সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন। শনিবার দুপুরে তাঁর জামায়াতে যোগদানের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ফুল হাতে জামায়াতের আমিরের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা তাঁর একটি ছবি ছড়িয়ে পড়লে আলোচনা আরও তীব্র হয়।
জামায়াতে যোগদানের বিষয়টি মুঠোফোনে গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে তিনি বলেন, আপাতত কিছু বলা সম্ভব নয়, পরে বসে খোলামেলা আলোচনা করবেন।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকালে রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কার্যালয়ে গিয়ে তিনি দলের আমির শফিকুর রহমানের কাছে ফরম পূরণ করে আনুষ্ঠানিকভাবে জামায়াতে যোগ দেন। জামায়াতের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দলের নীতি ও আদর্শ, দেশপ্রেম এবং দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জামায়াতে ইসলামীর অবিচল অবস্থানের প্রতি গভীর আস্থা রেখে তিনি সংগঠনের প্রাথমিক সহযোগী সদস্য ফরম পূরণ করেন এবং নিয়মনীতি, দলীয় শৃঙ্খলা ও আনুগত্যের প্রতি সর্বদা অনুগত থাকার অঙ্গীকার করেন।
এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে জামায়াতের কটিয়াদী উপজেলা আমির মোজাম্মেল হক জোয়ারদার বলেন, সাংগঠনিক প্রক্রিয়ায় তাঁদের আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি। তবে জামায়াতের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে যোগদানের বিষয়টি প্রচার করা হয়েছে। লিখিতভাবে জানানো হলে পরে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হবে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর কটিয়াদী ও পাকুন্দিয়া উপজেলায় ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। প্রথমে ছবির সত্যতা নিয়ে সন্দেহ দেখা দিলেও পরে বিষয়টি নিশ্চিত হলে নানা মতামত উঠে আসে। কেউ কেউ এটিকে স্বাভাবিক রাজনৈতিক ঘটনা হিসেবে দেখলেও অনেকে তীব্র সমালোচনা করেন।
কটিয়াদী উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আরিফুল ইসলাম বলেন, আখতারুজ্জামানের রাজনৈতিক অধ্যায় অনেক আগেই শেষ হয়েছে। এখন নতুন দলে যোগ দিয়ে তিনি কতটা সফল হতে পারবেন, তা সময়ই বলে দেবে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির একাধিক নেতা জানান, আখতারুজ্জামান একরোখা স্বভাবের মানুষ এবং প্রকাশ্যে কথা বলতে গিয়ে বারবার দলের কেন্দ্রীয় নেতাদের অসন্তোষের মুখে পড়েছেন। টক শোতে দলের বিরুদ্ধে বক্তব্য দেওয়ার কারণে তাঁকে একাধিকবার বহিষ্কার করা হয়েছে। বিএনপি অতীতে তাঁকে ফিরিয়ে নিলেও নতুন দলে তাঁর ভবিষ্যৎ কী হবে, তা নির্ভর করবে তাঁর রাজনৈতিক আচরণের ওপর।
স্থানীয় সূত্রগুলো জানায়, দীর্ঘদিন ধরেই আখতারুজ্জামান দলীয় পরিচয়ে আবার সক্রিয় রাজনীতিতে ফেরার চেষ্টা করছিলেন। তিনি বিএনপিতে ফিরতে চেয়েছেন এবং খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবিতেও সরব ছিলেন। এমনকি চলমান নির্বাচনে কিশোরগঞ্জ-২ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার ঘোষণাও দিয়েছিলেন। এর মধ্যেই জামায়াতে যোগদানের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় এলাকায় নতুন করে রাজনৈতিক আলোচনা শুরু হয়েছে।