খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ই আগস্ট ২০২৬, ৫:৪৩ পিএম
বর্তমানে দেশে বিদ্যুৎ ও গ্যাসসহ জ্বালানি খাতে যে সংকট তৈরি হয়েছে, এর দায় বর্তমান সরকারের নয় বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার। তাঁর ভাষ্য, দায়িত্ব নেওয়ার পর অল্প সময়ের মধ্যেই সরকার বিদ্যমান বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কাজ শুরু করেছে। জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার একাধিক উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
রোববার (১৬ আগস্ট) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব।
দেশের বর্তমান জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ বি এম আব্দুস সাত্তার বলেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকট এক দিনে তৈরি হয়নি। এসব সমস্যা সমাধানে সরকার বহুমুখী পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে তিনি বর্তমান সরকারের মেয়াদ ও দায়িত্ব পালনের সময় বিবেচনায় নিয়ে পরিস্থিতি মূল্যায়নের আহ্বান জানান।
মুখ্যসচিবের দাবি, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর মাত্র পাঁচ মাসের মতো সময় পেয়েছে। এই সময়ের মধ্যে দীর্ঘদিনের জমে থাকা সব সংকট সমাধান করা সম্ভব নয়। তবে বিদ্যমান সমস্যাগুলো কাটিয়ে উঠতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে বলে তিনি জানান।
জ্বালানি সংকটের প্রসঙ্গ টেনে তিনি আগের সরকারের দীর্ঘ সময়ের শাসনামলের সমালোচনা করেন। তাঁর অভিযোগ, আগের সরকার প্রায় ১৮ বছর ধরে জনপ্রশাসনকে ধ্বংস করে দিয়েছে। ফলে প্রশাসনিক কাঠামো ও রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন ক্ষেত্রে যে সমস্যাগুলো তৈরি হয়েছে, সেগুলো কাটিয়ে ওঠাও বর্তমান সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
এ বি এম আব্দুস সাত্তার বলেন, বর্তমান সরকার দেশ সঠিকভাবেই পরিচালনা করছে। তবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই একাধিক পুরোনো ও জটিল সমস্যা একসঙ্গে মোকাবিলা করতে হচ্ছে। জ্বালানি পরিস্থিতির পাশাপাশি অর্থনৈতিক চাপও সরকারের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়।
তিনি জানান, বর্তমান সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হলো অর্থনীতি। অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে ব্যাংকিং খাতকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও নানা সমস্যায় চাপে থাকা ব্যাংকিং খাত পুনরুদ্ধারে সরকার গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে বলেও তিনি জানান।
অর্থনীতির পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবাগুলো সচল রাখা সরকারের জন্য বড় দায়িত্ব। শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য, পরিবহন এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন—সব ক্ষেত্রেই জ্বালানি সরবরাহের ওপর সরাসরি প্রভাব পড়ে। ফলে সংকট মোকাবিলায় দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনার সময় মন্ত্রিসভায় ১৮০ দিনের মাথায় কোনো রদবদল হতে পারে কি না, সে বিষয়েও প্রশ্ন করা হয়। তবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব।
সরকারের সামনে জ্বালানি ও অর্থনৈতিক সংকটের পাশাপাশি প্রশাসনিক সক্ষমতা পুনর্গঠনও একটি বড় বিষয় হয়ে উঠেছে—মুখ্যসচিবের বক্তব্যে এমনই ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তাঁর দাবি অনুযায়ী, বর্তমান পরিস্থিতির পেছনে দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যা কাজ করছে এবং সেগুলো সমাধানে সরকারকে সময় দিতে হবে। তবে এসব সংকট কত দ্রুত ও কীভাবে মোকাবিলা করা সম্ভব হবে, সেটিই এখন সরকারের কার্যকারিতা মূল্যায়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মন্তব্য