কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে নববধূকে ঘরে তোলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন আহমেদ আনাস বাপ্পি নামে ২২ বছর বয়সী এক যুবক। পরদিনই ছিল বউভাতের আয়োজন। বাড়িতে তখন অতিথি আপ্যায়ন ও অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি চলছিল। কিন্তু রাত গভীর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই আনন্দের পরিবেশ বদলে যায় শোক ও কান্নায়। বিয়ের রাতেই স্বামীকে হারিয়ে শোকে ভেঙে পড়েছেন ১৮ বছর বয়সী নববধূ সাইরা খাতুন।
বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে দৌলতপুর উপজেলার হোগলবাড়িয়া ইউনিয়নের গাছের দিয়াড় স্কুলপাড়া এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত আনাস ওই এলাকার ইউসুফ আলীর ছেলে।
পরিবার ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় দুই মাস আগে আনাস ও সাইরা খাতুনের বিয়ে সম্পন্ন হয়। তবে বৃহস্পতিবার বিকেলে আনুষ্ঠানিকভাবে নববধূকে আনাসের বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। সাইরা উপজেলার ফিলিপনগর ইউনিয়নের বাহেরমাদি আলীনগর এলাকার সাইফুল ইসলামের মেয়ে।
নববধূকে ঘিরে শুক্রবার দুপুরে বউভাতের আয়োজন করা হয়েছিল। এ উপলক্ষে বাড়িতে আত্মীয়স্বজন ও অতিথিদের আপ্যায়নের প্রস্তুতি চলছিল। তৈরি করা হচ্ছিল প্যান্ডেল, চলছিল রান্নাবান্নাসহ নানা কাজ। পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি আনাসও অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি তদারক করছিলেন।
এরই মধ্যে রাত আনুমানিক ২টার দিকে একটি স্ট্যান্ড ফ্যান সরাতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন তিনি। পরিবারের সদস্যরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। তবে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা করে আনাসকে মৃত ঘোষণা করেন।
আনাসের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর পুরো বাড়ির পরিবেশ মুহূর্তেই পাল্টে যায়। যে বাড়িতে কিছুক্ষণ আগেও ছিল বিয়ের আনন্দ, অতিথিদের আনাগোনা এবং পরদিনের অনুষ্ঠান নিয়ে ব্যস্ততা, সেখানেই শুরু হয় কান্না ও আহাজারি। স্বামীকে হারিয়ে নববধূ সাইরা খাতুন শোকে ভেঙে পড়েছেন। স্বজনদের মধ্যেও নেমে এসেছে গভীর শোকের আবহ।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মিলন হোসেন জানান, স্ট্যান্ড ফ্যান থেকে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়েই আনাসের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। প্রায় দুই মাস আগে তাদের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছিল। বৃহস্পতিবার নববধূকে বাড়িতে আনার পর শুক্রবার বউভাত হওয়ার কথা ছিল। এমন একটি আনন্দঘন আয়োজনের মধ্যেই দুর্ঘটনাটি পুরো পরিবারকে বিপর্যস্ত করে দিয়েছে।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খালেদুর রহমান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত বেদনাদায়ক। পুলিশ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম নেওয়া হচ্ছে।
একটি পরিবারের জন্য বিয়ের অনুষ্ঠান সাধারণত নতুন জীবনের সূচনার প্রতীক। সেই আয়োজনের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এমন আকস্মিক মৃত্যু পরিবারটির জন্য অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে নববধূ সাইরা খাতুনের জন্য আনন্দের সেই দিনটি মুহূর্তেই পরিণত হয়েছে জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময়ে। স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যেও এ ঘটনায় গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে।


