বুড়িগঙ্গা নদী থেকে পৃথক ঘটনায় দুটি মরদেহ উদ্ধার করেছে নৌ পুলিশ। মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুর ও বিকেলে কেরানীগঞ্জের দুটি এলাকা থেকে মরদেহ দুটি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া মরদেহের মধ্যে একজনের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে, অন্যজনের পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
নৌ পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার দুপুরে কেরানীগঞ্জ মডেল থানার আওতাধীন ওয়াশপুর ঝাউচর খেয়াঘাট এলাকার পাশ থেকে একটি মরদেহ উদ্ধার করে বসিলা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা। পরে জানা যায়, মরদেহটি হৃদয় নামের এক যুবকের। একই দিন বিকেল ৪টার দিকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার কোন্ডা ইউনিয়নের কান্দাপাড়া খেয়াঘাটের কাছাকাছি মাঝ নদীতে ভাসমান অবস্থায় আরেকটি মরদেহ উদ্ধার করে পাগলা নৌ পুলিশ।
বসিলা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক ওমর আলী জানান, উদ্ধার হওয়া হৃদয় বসিলা উত্তর মোড়া এলাকার বাসিন্দা সিরাজুল ইসলামের ছেলে। তিনি একটি কুরিয়ার সার্ভিস প্রতিষ্ঠানে ডেলিভারি ম্যান হিসেবে কাজ করতেন। প্রাথমিকভাবে মরদেহটি অজ্ঞাত হিসেবে উদ্ধার করা হলেও পরে তার পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মরদেহ উদ্ধারের পর হৃদয়ের পকেটে থাকা মোবাইল ফোনের সিমকার্ডের মাধ্যমে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। খবর পেয়ে স্বজনরা মর্গে গিয়ে মরদেহটি হৃদয়ের বলে শনাক্ত করেন।
হৃদয়ের ছোট ভাই আকাশের বরাত দিয়ে বসিলা নৌ পুলিশের এএসআই আজহার আলী জানান, হৃদয় দুই দিন আগে কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন। এরপর থেকে তিনি নিখোঁজ ছিলেন। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। পরে পুলিশ থেকে ফোন পেয়ে তারা মর্গে গিয়ে হৃদয়ের পরিচয় নিশ্চিত করেন।
অন্যদিকে, বিকেলে উদ্ধার হওয়া অপর মরদেহের পরিচয় এখনো পাওয়া যায়নি। পাগলা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মালেক বিশ্বাস জানান, স্থানীয় লোকজন নদীর মাঝখানে একটি মরদেহ ভাসতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।
পুলিশের প্রাথমিক সুরতহালে ওই মরদেহে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। কর্মকর্তারা জানান, নিহত ব্যক্তির ডান পা বিচ্ছিন্ন অবস্থায় ছিল, বাম পা ও ডান হাত ভাঙা এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। উদ্ধারের সময় তার শরীরে কোনো পোশাক ছিল না। তবে কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ ও মিটফোর্ড হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।
দুটি ঘটনায় পৃথকভাবে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বসিলা ও পাগলা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট থানায় পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি অজ্ঞাত মরদেহের পরিচয় শনাক্ত এবং ঘটনার পেছনের কারণ খুঁজে বের করতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।
মন্তব্য