সকাল থেকেই বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা বেতন বৃদ্ধির দাবিতে আজমপুর এলাকায় জড়ো হতে থাকেন। পরে একপর্যায়ে তারা মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। শ্রমিকদের সড়কে অবস্থানের কারণে ওই পথে যান চলাচল কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। এতে মহাসড়কের দুই পাশে যানবাহনের দীর্ঘ সারি তৈরি হয় এবং আশপাশের সড়কেও যানজট ছড়িয়ে পড়ে।
শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বেতন বাড়ানোর দাবিতে তারা এ কর্মসূচি পালন করছেন। বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরা একত্রিত হয়ে সড়কে অবস্থান নেওয়ায় স্বাভাবিক যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। তবে তাদের নির্দিষ্ট দাবির বিস্তারিত, বেতন কতটা বাড়ানোর প্রত্যাশা করছেন এবং এ বিষয়ে কারখানা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না, তা জানা যায়নি।
অবরোধের কারণে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন গণপরিবহনে চলাচলকারী যাত্রীরা। দীর্ঘ সময় বাসে বসে থেকেও অনেকে সামনে এগোতে পারেননি। নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থল বা গন্তব্যে পৌঁছাতে না পেরে কেউ কেউ বাস থেকে নেমে হেঁটে যাত্রা শুরু করেন। জরুরি কাজে বের হওয়া মানুষও পড়েন বিপাকে।
বাসে আটকে পড়া সিপার মাহমুদ বলেন, ‘সকালে জরুরি কাজে বের হয়েছি। কিন্তু সড়কে শ্রমিকদের অবরোধের কারণে আটকে পড়ে যাই। অনেক সময় বাসে অপেক্ষার পর হেঁটেই যাচ্ছি।’
শ্রমিকদের এই কর্মসূচির প্রভাব আজমপুর ছাড়িয়ে উত্তরার আশপাশের সড়কগুলোতেও পড়েছে। যানজটের কারণে যাত্রীদের যাতায়াতে অতিরিক্ত সময় লাগছে। বিশেষ করে নির্দিষ্ট সময়ে অফিস, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান কিংবা অন্যান্য জরুরি কাজে পৌঁছানোর পরিকল্পনা করা ব্যক্তিরা সমস্যায় পড়েছেন।
বেতন বৃদ্ধি নিয়ে শ্রমিকদের অসন্তোষের কারণে সড়কে এমন কর্মসূচি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। তবে শ্রমিকদের দাবি নিয়ে সংশ্লিষ্ট কারখানা কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একইভাবে অবরোধ প্রত্যাহারে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়েও বিস্তারিত জানা যায়নি।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত আজমপুর ও আশপাশের এলাকায় চলাচলকারীদের বিকল্প পথ ব্যবহারের পাশাপাশি হাতে পর্যাপ্ত সময় নিয়ে বের হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। যানজটের কারণে জরুরি যাতায়াতের পরিকল্পনা থাকলে সম্ভাব্য বিলম্বের বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।


