খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৩ই আগস্ট ২০২৬, ১০:৪২ পিএম
রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) ‘জুলাই অভ্যুত্থান’ উপলক্ষে আয়োজিত একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনীকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।
আজ সোমবার (৩ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা স্মারক মাঠে প্রদর্শনী অনুষ্ঠান চলাকালে এই অপ্রীতিকর ঘটনার সূচনা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শী ও বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে জুলাই অভ্যুত্থানের স্মৃতি রক্ষার্থে ক্যাম্পাসে এই আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছিল। প্রদর্শনীতে ‘জুডিসিয়াল কিলিং’ শিরোনামের একটি অংশে বিচার প্রক্রিয়ায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ কয়েকজন নেতা এবং সালাউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরীর ছবি প্রদর্শন করা হয়। বিষয়টি নিয়ে আপত্তি তোলে শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। তারা গিয়ে প্রদর্শনী থেকে সংশ্লিষ্ট ব্যানার ও আলোকচিত্রগুলো সরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেন।
এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে শুরুতেই উভয় পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে তপ্ত বাক্যবিনিময় ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে শাখা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি নীরবসহ কয়েকজন কর্মী শিবিরের এক কর্মীর ওপর চড়াও হন। পরবর্তীতে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা গাছের ডাল ও ক্রিকেট খেলার স্টাম্প নিয়ে শিবিরের কর্মীদের ওপর হামলা চালান। এ সময় স্টাম্পের আঘাতে শিবির নেতা মেহেদী হাসান গুরুতর আহত হন।
হামলার এই ঘটনার পরপরই পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি বিবেচনায় ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের সড়ক মাঠে এবং ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নেন। উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি রাজনৈতিক ও প্রতিবাদী স্লোগান দিতে থাকে। খবর পেয়ে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. ফেরদৌস রহমান দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উভয় পক্ষকে শান্ত করার এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালান, তবে উত্তেজনা কমেনি।
উত্তেজনার একপর্যায়ে পরিস্থিতি আরও সহিংস রূপ নেয়। অভিযোগ উঠেছে, ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদক মাসুদ রানা বস্তায় করে ভাঙা ইট এনে উপস্থিত শিবির নেতাকর্মীদের লক্ষ্য করে নিক্ষেপ করা শুরু করেন। ইট-পাটকেল নিক্ষেপের সাথে সাথে দুই পক্ষের মধ্যে সরাসরি সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়। প্রায় আধঘণ্টাব্যাপী এই পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার পর একপর্যায়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা মাঠ ছেড়ে ছত্রভঙ্গ হয়ে স্থান ত্যাগ করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ে উদ্ভূত এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি নিয়ে প্রক্টর ড. ফেরদৌস রহমান জানান, ক্যাম্পাসের পরিবেশ শান্ত রাখতে প্রশাসন তৎপর রয়েছে। তিনি আরও বলেন, এই মারামারি ও সহিংসতার ঘটনার সাথে যারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত, সিসিটিভি ফুটেজ ও সংগৃহীত ভিডিও ফুটেজ দেখে তাদের পরিচয় শনাক্ত করে দ্রুত কঠোর প্রাতিষ্ঠানিক ও আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
মন্তব্য