খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৮ই আগস্ট ২০২৬, ৫:৩৯ পিএম
ঢাকার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে আয়োজিত ‘সঙস অব দ্য মনসুন রেভল্যুশন’ কনসার্টে মঞ্চে গান পরিবেশনের সময় বোতল নিক্ষেপের ঘটনায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ব্যান্ড আরকের প্রধান কণ্ঠশিল্পী হাসান। তবে ঘটনাটিকে ঘিরে ক্ষোভের বদলে ক্ষমার দৃষ্টিভঙ্গি রাখার কথা জানিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে কোনো শিল্পী যেন এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ও অসম্মানজনক পরিস্থিতির মুখোমুখি না হন, সেই আহ্বানও জানিয়েছেন এই জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী।
৫ আগস্ট মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে ‘সঙস অব দ্য মনসুন রেভল্যুশন’ শীর্ষক কনসার্টের আয়োজন করা হয়। সেখানে পরিবেশনার সময় দর্শকসারির দিক থেকে একটি বোতল ছুড়ে মারা হয় হাসানকে লক্ষ্য করে। ঘটনাটি তাৎক্ষণিকভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দেয়। সংগীত ও বিনোদন অঙ্গনের অনেকেই এ ধরনের আচরণের সমালোচনা করেন।
রাজশাহী থেকে ঢাকায় ফেরার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে নিজের দীর্ঘ সংগীতজীবনের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন হাসান। তিনি জানান, দীর্ঘদিন ধরে বাংলা ব্যান্ড সংগীতের সঙ্গে যুক্ত থাকার সুবাদে নানা ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন। কিন্তু মঞ্চে গান পরিবেশনের সময় দর্শকের কাছ থেকে এভাবে বোতল ছোড়ার ঘটনা তাঁর জন্য সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত ছিল।
হাসানের ভাষ্য, তিনি বিশ্বাস করতে চান, যে ব্যক্তি বোতলটি ছুড়েছেন, তিনি হয়তো কাজটির পরিণতি সম্পর্কে পুরোপুরি সচেতন ছিলেন না। তাই ঘটনাটিকে ঘিরে প্রতিশোধ বা বিদ্বেষের পরিবর্তে ক্ষমার মনোভাব পোষণ করতে চান তিনি। তবে একই সঙ্গে তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন, একজন শিল্পীকে মঞ্চে এমন পরিস্থিতির মুখে পড়তে হওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়।
শিল্পীদের প্রতি দর্শকদের আচরণ ও দৃষ্টিভঙ্গি নিয়েও কথা বলেছেন হাসান। তাঁর মতে, শিল্পীরা মূলত মানুষের ভালোবাসা ও সম্মান পাওয়ার প্রত্যাশা নিয়েই মঞ্চে ওঠেন। গান বা পরিবেশনার বিনিময়ে দর্শকের কাছ থেকে তাঁরা ভালোবাসা চান, অপমান কিংবা অনিরাপদ পরিস্থিতি নয়। তাই কোনো কনসার্টে মতপার্থক্য বা অসন্তোষ তৈরি হলেও তার প্রকাশ যেন শিল্পীর নিরাপত্তা ও মর্যাদাকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকা প্রয়োজন।
শিল্পীদের রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে বিচার করার প্রবণতারও সমালোচনা করেছেন আরকের এই গায়ক। তাঁর বক্তব্য, একজন শিল্পীর কর্মজীবন কোনো নির্দিষ্ট সময় বা রাজনৈতিক পরিবেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। একজন শিল্পী পাঁচ বা দশ বছরের জন্য শিল্পী নন; তিনি সারা জীবনই শিল্পী হিসেবে পরিচিত থাকেন।
হাসান আরও বলেন, শিল্পীরা বিভিন্ন সময়ে সরকারি, বেসরকারি কিংবা রাজনৈতিক নানা আয়োজনে গান পরিবেশন করেন। কোনো একটি অনুষ্ঠান বা নির্দিষ্ট সময়ের উপস্থিতির ভিত্তিতে একজন শিল্পীকে একটি রাজনৈতিক পরিচয়ের সঙ্গে স্থায়ীভাবে যুক্ত করে দেখা সমীচীন নয়। শিল্পীর কাজ, সংগীত এবং দীর্ঘ ক্যারিয়ারকে আলাদা দৃষ্টিতে দেখার আহ্বান জানান তিনি।
মঞ্চে শিল্পীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টিকেও গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন হাসান। তাঁর মতে, একটি সফল কনসার্টের জন্য শুধু ভালো শিল্পী, সংগীত ও দর্শকসমাগম যথেষ্ট নয়; মঞ্চে পরিবেশনাকারীদের নিরাপত্তা এবং তাঁদের প্রতি ন্যূনতম সম্মান নিশ্চিত করাও আয়োজকদের পাশাপাশি দর্শকদের দায়িত্ব।
ঘটনার পরদিন, ৬ আগস্ট রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজিত একটি কনসার্টে অংশ নেন হাসান ও আরক। অর্থাৎ ঢাকার কনসার্টে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পরও তাঁর সংগীতচর্চা ও মঞ্চ পরিবেশনা থেমে থাকেনি।
তবে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের ঘটনাটি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে এনেছে—কনসার্টে দর্শক ও শিল্পীর পারস্পরিক সম্মান এবং নিরাপত্তা কীভাবে আরও কার্যকরভাবে নিশ্চিত করা যায়। হাসানের বক্তব্যে সেই বিষয়টিই স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে। তাঁর প্রত্যাশা, ভবিষ্যতে দেশের কোনো শিল্পীকে যেন মঞ্চে দাঁড়িয়ে এমন অপ্রীতিকর অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হতে না হয়।
মন্তব্য