গাজীপুর মহানগরের কোনাবাড়ীতে এক ব্যবসায়ীকে জিম্মি করে শারীরিক নির্যাতন ও ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। নিজেকে স্থানীয় বিএনপি নেতা পরিচয়ে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার খবর পেয়ে রোববার অভিযানে নামে পুলিশ। ভুক্তভোগীর দায়ের করা লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়।
আটককৃত যুবকের নাম নিরব (২৮)। তিনি স্থানীয় রাজাবাড়ি এলাকার আজিম উদ্দিনের ছেলে। রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুর ২টার দিকে কোনাবাড়ী থানাধীন ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পল্লী বিদ্যুৎ এলাকা থেকে তাঁকে আটক করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি দল।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, অভিযুক্ত নিরব দীর্ঘদিন ধরে কোনাবাড়ী ও আশপাশের এলাকায় নিজেকে বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতা হিসেবে জাহির করে আসছিলেন। রাজনৈতিক প্রভাব ও ভুয়া পরিচয়ের ভয় দেখিয়ে তিনি বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও সাধারণ পথচারীদের নানাভাবে হয়রানি করতেন। এর ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি কোনাবাড়ী এলাকার ২৬ বছর বয়সী ব্যবসায়ী কামাল হোসেনকে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যান তিনি।
অভিযোগে বলা হয়, অপহৃত কামালকে গোপন স্থানে আটকে রেখে নির্দয়ভাবে শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। একই সাথে মুক্তিপণ ও চাঁদা হিসেবে তাঁর কাছে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন অভিযুক্ত নিরব। নির্যাতন থেকে কোনোমতে রক্ষা পেয়ে ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী কামাল হোসেন গত ৭ অক্টোবর কোনাবাড়ী থানায় উপস্থিত হয়ে নিরবের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
অভিযোগ প্রাপ্তির পর পুলিশ ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে মাঠে নামে। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে রোববার দুপুরে অভিযান চালিয়ে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের পাশ থেকে নিরবকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
এদিকে, অভিযুক্ত ব্যক্তির রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় দলীয় নেতারা। কোনাবাড়ী থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. বাবুল হোসেন স্পষ্ট ভাষায় জানান, নিরব নামের ওই যুবকের সাথে বিএনপির কোনো ধরনের সাংগঠনিক সম্পর্ক নেই। কোনাবাড়ী থানা বিএনপির কোনো পদে বা কমিটিতে তাঁর নাম কিংবা স্থান নেই বলেও তিনি নিশ্চিত করেন। দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে কেউ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হলে তার দায়ভার দল নেবে না বলে জানান তিনি।
গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে কোনাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. রফিকুল ইসলাম জানান, ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীর অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। আটক নিরবের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আইনি আনুষ্ঠানিকতা শেষে আসামিকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।


