খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ই জুলাই ২০২৬, ৭:৩০ এএম
বিশ্বকাপের সবুজ মাঠে বল পায়ে যখন তিনি ছোটেন, তখন প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ থরথর করে কাঁপে। আর মাঠের বাইরে যখন তিনি দাঁড়ান, তখন অসহায় মানুষের মুখে ফোটে চিলতে হাসি। তিনি ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। কাতার বিশ্বকাপের ময়দানে পর্তুগালকে নকআউট পর্বে তুলে যখন কোটি ভক্তকে আনন্দে ভাসাচ্ছেন, ঠিক তখনই মাঠের বাইরে এক অনন্য মানবিকতার গল্প লিখে বিশ্বজুড়ে প্রশংসিত হচ্ছেন এই পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী মহাতারকা। ভেনেজুয়েলার সাম্প্রতিক এক ভয়াবহ ভূমিকম্পে নিজের একটি পা হারিয়ে ফেলা এক খুদে ভক্তের স্বপ্ন পূরণ করে তিনি প্রমাণ করলেন—কেন তিনি কোটি মানুষের হৃদয়ের রাজা।
ভেনেজুয়েলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া সাম্প্রতিক শক্তিশালী ভূমিকম্পের আঘাত দেশটির বহু পরিবারকে নিঃস্ব করে দিয়েছে। লা গুয়াইরা অঙ্গরাজ্যের কিশোর আন্দ্রেস মিয়েলেসও এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের এক নির্মম শিকার। ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে নিজের একটি পা চিরতরে হারাতে হয়েছে তাকে। বর্তমানে হাসপাতালের চার দেয়ালের মাঝে তীব্র শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণা নিয়ে দিন কাটছে তার। তবে জীবনের এই চরম দুঃসময়েও ফুটবলের প্রতি তার নিখাদ ভালোবাসা এবং প্রিয় তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর প্রতি অনুরাগ একটুও ম্লান হয়নি। হাসপাতালের বিছানায় শুয়েই আন্দ্রেস স্বপ্ন দেখছিল তার কাতার বিশ্বকাপের স্টিকার অ্যালবামে প্রিয় ফুটবলারের অফিশিয়াল স্টিকারটি যুক্ত করার।
এক পা হারানো এই লড়াকু শিশুর এই আকুল আকাঙ্ক্ষার কথা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সুবাদে একসময় পৌঁছে যায় পর্তুগিজ অধিনায়কের কান পর্যন্ত। বিশ্বকাপের মাঠ মাতানোর চরম ব্যস্ততার মাঝেও রোনালদো এই খবরটি এড়িয়ে যাননি। বরং শিশুটির মুখে হাসি ফোটাতে তিনি পর্তুগাল জাতীয় দলের জার্সি গায়ে জড়িয়ে একটি আবেগঘন ভিডিওবার্তা রেকর্ড করে পাঠান।
ভিডিওবার্তায় রোনালদোর কণ্ঠে ছিল এক বড় ভাইয়ের স্নেহ ও সান্ত্বনা। আন্দ্রেসকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন:
‘হ্যালো আন্দ্রেস, কেমন আছ? তোমাকে একটি বড় আলিঙ্গন পাঠাতেই এই ভিডিওটি করেছি। আমি জানি তুমি আমার বড় ভক্ত। আশা করি খুব দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবে। আমি চাই তুমি আমার একটি ম্যাচে এসো, আমরা একসঙ্গে খেলা উপভোগ করব। তোমার সঙ্গে দেখা করার অপেক্ষায় আছি। সাহস রেখো, বন্ধু।’
রোনালদোর এই একটি ছোট্ট বার্তা হাসপাতালের নিস্তেজ পরিবেশে জাদুকরী ওষুধের মতো কাজ করেছে, আন্দ্রেসের মনে জুগিয়েছে বেঁচে থাকার নতুন রসদ।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) সাংবাদিক গ্যাবি আরোচার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রোনালদোর এই আহ্বানের পর কতিপয় সহৃদয় দাতার সহায়তায় বিশ্বকাপের সেই বহু প্রতীক্ষিত স্টিকারটি ইতোমধ্যে আন্দ্রেসের হাতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। তবে চমকের এখানেই শেষ নয়, খুব শীঘ্রই আন্দ্রেস পেতে যাচ্ছে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর নিজের অটোগ্রাফ দেওয়া একটি অফিশিয়াল জার্সি।
ভেনেজুয়েলার এই মানবিক সংকটে রোনালদোর পাশাপাশি দাঁড়িয়েছে তার পরিবারও। এই ঘটনার আগেই রোনালদোর জীবনসঙ্গী জর্জিনা রদ্রিগেজ ভেনেজুয়েলার ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত ও গৃহহীন মানুষের জন্য বিপুল পরিমাণ জরুরি ত্রাণসামগ্রী পাঠিয়েছিলেন। মাঠের গোল আর ট্রফির হিসাবকে ছাপিয়ে রোনালদো ও তার পরিবারের এমন নিঃস্বার্থ মানবিকতা আবারও প্রমাণ করল—ফুটবল শুধু একটি খেলা নয়, এটি মানুষের হৃদয়কে জুড়ে দেওয়ার এক পলিমাটি।
মন্তব্য