মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে একই মাঠে এবং একই প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হয়ে একেবারে ভিন্ন দুটি অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হলো ম্যানচেস্টার সিটি। গত বুধবার কারাবাও কাপের নকআউট পর্বে নিজেদের মাঠ ইতিহাদ স্টেডিয়ামে ব্রাইটনকে টাইব্রেকারে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছিল এনজো মারেস্কার শিষ্যরা। তবে শনিবার ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের হাইভোল্টেজ ম্যাচে সেই একই প্রতিপক্ষের সামনে যেন কোনো কৌশলই কাজে এলো না। নিজেদের শক্তির দুর্গ ইতিহাদে ব্রাইটনের কাছে ১-০ গোলের অপ্রত্যাশিত ব্যবধানে হেরে মাঠ ছেড়েছে ম্যানচেস্টার সিটি।
প্রিমিয়ার লিগের আগের ম্যাচে অ্যাস্টন ভিলার বিপক্ষে ধাক্কা খাওয়ার পর এবার ব্রাইটনের কাছে পরাজিত হয়ে টানা দুই ম্যাচে হারের তেতো স্বাদ পেল দলটি। পরপর এই দুটি পরাজয়ের ফলে লিগের পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষস্থান ধরে রাখা এখন গুরুতর সংকটের মুখে পড়েছে। বর্তমানে ৯ ম্যাচ খেলে ২১ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের এক নম্বরে অবস্থান করছে সিটি। তবে তাদের ঠিক পেছনেই থাকা আর্সেনাল ১ ম্যাচ কম খেলে সমপরিমাণ ২১ পয়েন্ট সংগ্রহ করে রেসে টিকিয়ে রেখেছে নিজেদের। রোববার লিভারপুলের বিপক্ষে আর্সেনাল স্রেফ একটি ড্র করতে পারলেই ম্যানচেস্টার সিটিকে সরিয়ে পয়েন্ট টেবিলের একক শীর্ষে উঠে যাবে।
ইতিহাদ স্টেডিয়ামে ম্যাচের প্রথম বাঁশি বাজার পর থেকেই ইতিবাচক ফুটবল খেলতে শুরু করে সফরকারী ব্রাইটন। মাঝমাঠের দখল নিয়ে সিটির ওপর চাপ সৃষ্টি করার ফলও তারা পেয়ে যায় খুব দ্রুত। খেলার ১১তম মিনিটে সিটির পর্তুগিজ ফুটবলার মাতেউস নুনেসের একটি মারাত্মক ভুলের সুযোগ কাজে লাগায় ব্রাইটন। বল কেড়ে নিয়ে দ্রুত আক্রমণে উঠে চমৎকার শটে লক্ষ্যভেদ করেন ব্রাইটনের সুইডিশ মিডফিল্ডার ইয়াসিন আয়ারি। তাঁর এই এক গোলেই স্তব্ধ হয়ে যায় পুরো ইতিহাদ।
এক গোল হজম করার পর সমতায় ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে স্বাগতিক ম্যানচেস্টার সিটি। আর্লিং হালান্ড ও জেরেমি ডোকুরা একের পর এক আক্রমণ সাজিয়ে ব্রাইটনের রক্ষণে চিড় ধরার চেষ্টা চালান। কিন্তু পুরো ম্যাচ জুড়েই সফরকারীদের রক্ষণভাগ ছিল একদম জমাটবদ্ধ ও সুসংগঠিত। পাশাপাশি ব্রাইটনের ডাচ গোলরক্ষক বার্ট ভারব্রুগেনও পোস্টের নিচে অসাধারণ দেয়াল তুলে দাঁড়ান। সিটির অন্তত কয়েকটি নিশ্চিত গোলচেষ্টা প্রতিহত করে দলকে রক্ষা করেন এই তরুণ গোলকিপার।
ম্যাচের দ্বিতীয় অর্ধের খেলায় উল্টো নিজেদের ব্যবধান দ্বিগুণ করে নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিল ব্রাইটন। তবে আক্রমণভাগের খেলোয়াড়দের ব্যর্থতায় সেই সুযোগ নষ্ট হয়। নির্ধারিত সময়ের একেবারে শেষ মুহূর্তে সিটির তরুণ খেলোয়াড় নিকো ও’রাইলির একটি জোরালো হেড অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে সমতায় ফেরার শেষ আশাও ফিকে হয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত ঘরের মাঠে হতাশার হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় ম্যানচেস্টার সিটিকে।


