পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল এখন কলকাতায়। শনিবার (৩ অক্টোবর) বিবেকানন্দ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে স্বাগতিক ভারতের মুখোমুখি হবে কার্লো আনচেলত্তির দল। বাংলাদেশ সময় রাত ৮টায় শুরু হবে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচটি। বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম শক্তিশালী দলের বিপক্ষে ভারতের এই ম্যাচ ঘিরে দর্শকদের আগ্রহের কেন্দ্রে থাকছেন ব্রাজিলের তারকা ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়ুস জুনিয়র।
ভারতের মাটিতে ভিনিসিয়ুসের আগমন অবশ্য এবারই প্রথম নয়। প্রায় এক দশক আগে কিশোর ফুটবলার হিসেবে দেশটিতে এসেছিলেন তিনি। তখনও তার নাম নিয়ে আগ্রহ ছিল, তবে আজকের ভিনিসিয়ুসের সঙ্গে সেই সময়ের খেলোয়াড়টির পার্থক্য অনেক। ১০ বছর পর তিনি ভারতে ফিরেছেন রিয়াল মাদ্রিদের অন্যতম পরিচিত মুখ এবং ব্রাজিলের আক্রমণভাগের গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় হিসেবে।
২০১৬ সালে ভারতের গোয়ায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল প্রথম ব্রিকস অনূর্ধ্ব-১৭ ফুটবল টুর্নামেন্ট। ব্রাজিল, ভারত, চীন, রাশিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার যুব দল অংশ নিয়েছিল সেই আসরে। প্রতিযোগিতাটিতে ব্রাজিল শিরোপা জেতে। দলের সাফল্যে বড় অবদান ছিল তরুণ ভিনিসিয়ুসের। চার গোল করে তিনি টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছিলেন।
গোয়ায় কাটানো সেই সময়ের স্মৃতি এখনও মনে রেখেছেন ভিনিসিয়ুস। ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশনের (সিবিএফ) মিডিয়া সিবিএফ টিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, ছোটবেলায় ভারতে আবার ফিরবেন—এমনটা কখনো কল্পনাও করেননি। সে সময় ভারতীয় সমর্থকদের কাছ থেকে যে পরিমাণ ভালোবাসা পেয়েছিলেন, সেটিও তার কাছে ছিল বিশেষ অভিজ্ঞতা।
ভিনিসিয়ুসের ভাষ্য অনুযায়ী, ব্রিকস টুর্নামেন্ট চলাকালীনই তিনি বুঝতে পারেন ভারতীয় সমর্থকেরা তাকে কতটা অনুসরণ করছেন। পরবর্তী সময়েও সমর্থকদের কাছ থেকে বার্তা পেয়েছেন তিনি। ক্যারিয়ারের পরবর্তী ধাপে বিশ্ব ফুটবলে নিজের অবস্থান তৈরি করলেও ভারতের সেই সমর্থনের কথা তার মনে রয়ে গেছে।
এবারের সফরে সেই পুরোনো সম্পর্কের সঙ্গে যোগ হচ্ছে জাতীয় দলের হয়ে মাঠে নামার অভিজ্ঞতা। ভারতের বিপক্ষে ভিনিসিয়ুসের খেলা নিশ্চিত বলেই ধরে নেওয়া হচ্ছে। রাফিনিয়া চোটের কারণে ম্যাচ থেকে ছিটকে যাওয়ায় ব্রাজিলের আক্রমণভাগে ভিনিসিয়ুসের ওপর দায়িত্বও বাড়তে পারে। ফলে কলকাতার দর্শকদের সামনে তার পারফরম্যান্সের দিকে থাকবে বিশেষ নজর।
তবে ভারতের বিপক্ষে ব্রাজিলের একাদশে শুধু একজন খেলোয়াড়কে ঘিরে পরিবর্তন হচ্ছে না। কোচ কার্লো আনচেলত্তি সম্ভাব্য সাতটি পরিবর্তন আনতে পারেন। চলমান আন্তর্জাতিক বিরতিতে খেলোয়াড়দের বিভিন্ন সমন্বয়ে পরীক্ষা করার যে পরিকল্পনা তিনি নিয়েছেন, ভারতের বিপক্ষেও তার প্রতিফলন দেখা যেতে পারে।
এর আগে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম প্রীতি ম্যাচে ১-১ গোলে ড্র করেছিল ব্রাজিল। পরের ম্যাচে আনচেলত্তি একাদশে সাতটি পরিবর্তন আনেন এবং পরিবর্তিত দল ৪-২ গোলের জয় তুলে নেয়। ফলে ভারতের বিপক্ষেও একাদশে রদবদলের সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
এই আন্তর্জাতিক বিরতিতে তিনটি প্রীতি ম্যাচের জন্য ২৬ সদস্যের স্কোয়াড ঘোষণা করেছিলেন আনচেলত্তি। মূল লক্ষ্যগুলোর একটি হলো দলের বিভিন্ন খেলোয়াড়কে মাঠে পর্যাপ্ত সময় দেওয়া এবং তাদের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করা। একই সঙ্গে বিভিন্ন সমন্বয় ও কৌশল পরীক্ষা করে দেখার সুযোগ পাচ্ছেন ব্রাজিলের কোচ।
ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি সেই পরীক্ষার ধারাবাহিকতারই অংশ। ২৬ সদস্যের স্কোয়াডের খেলোয়াড়দের সবাইকে মাঠে নামানোর পরিকল্পনা অনুযায়ী এই ম্যাচেও আরও কয়েকজন সুযোগ পেতে পারেন। এতে আনচেলত্তির সামনে দলের বিকল্পগুলো মূল্যায়নের সুযোগ বাড়বে।
অন্যদিকে ভারতের জন্য ম্যাচটি নিঃসন্দেহে কঠিন পরীক্ষা। ঘরের মাঠে ব্রাজিলের মতো দলের বিপক্ষে খেলার সুযোগ যেমন বিরল, তেমনি ভারতীয় ফুটবলারদের জন্যও এটি নিজেদের সামর্থ্য যাচাইয়ের বড় মঞ্চ। দর্শকদের জন্যও ম্যাচটির আকর্ষণ আলাদা—বিশেষ করে ভিনিসিয়ুসকে ভারতের মাটিতে আবার খেলতে দেখার সুযোগ থাকায়।
দশ বছর আগে গোয়ায় কিশোর ফুটবলার হিসেবে চার গোল করে আলোচনায় এসেছিলেন ভিনিসিয়ুস। এবার তিনি ফিরেছেন সম্পূর্ণ ভিন্ন পরিচয়ে। রিয়াল মাদ্রিদের তারকা হিসেবে বিশ্ব ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর ব্রাজিলের সিনিয়র দলের হয়ে কলকাতায় নামবেন তিনি। পুরোনো স্মৃতির সঙ্গে নতুন অধ্যায়ের এই যোগসূত্রই ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটিকে ভিনিসিয়ুসের জন্য আরও বিশেষ করে তুলেছে।


