ভুয়া বিয়ের ফাঁদে কিশোরীকে ধর্ষণ, প্রধান আসামি গ্রেপ্তার

শেরপুরে ভুয়া বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণা ও ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলার প্রধান আসামি আনোয়ার হোসেন রানাকে (২৩) গ্রেপ্তার করেছে শেরপুর র‍্যাব। বৃহস্পতিবার রাতে লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

শুক্রবার সকালে র‍্যাবের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। সিপিসি-১, র‍্যাব-১৪, জামালপুরের কোম্পানি কমান্ডার মেজর লাবিদ আহমেদ গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। গ্রেপ্তার রানা লক্ষ্মীপুর জেলার বাসিন্দা। গত ৩০ অক্টোবর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে শেরপুর সদর থানায় দায়ের করা মামলায় তিনি প্রধান আসামি।

মামলার এজাহার ও র‍্যাবের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীর সঙ্গে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে আনোয়ার হোসেন রানার পরিচয় হয়। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সেই সম্পর্কের সূত্র ধরে রানা কিশোরীকে বিয়ের আশ্বাস দেন।

অভিযোগে বলা হয়, গত বছরের ২৩ ডিসেম্বর রানা কিশোরীকে তার বাবার বাড়ি থেকে ডেকে শেরপুর শহরের একটি বাসায় নিয়ে যান। সেখানে একজন ভুয়া কাজীর মাধ্যমে নীল রঙের কাগজে কিশোরীর স্বাক্ষর নেওয়া হয়। এভাবেই বিয়ের নামে একটি আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে তাকে বিশ্বাস করানো হয় যে তাদের বিয়ে হয়েছে।

এরপর রানা ও ওই কিশোরী স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে চলাফেরা শুরু করেন। এমনকি রানার নিজের বাড়ি এবং কিশোরীর বাবার বাড়িতেও তারা স্বামী-স্ত্রী হিসেবে বসবাস করেন। এভাবে বিয়ের বিশ্বাস তৈরি করে আসামি কিশোরীর সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।

একপর্যায়ে কিশোরী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন। গর্ভাবস্থার সাত মাসের দিকে তিনি রানার কাছে বিয়ের কাবিননামা দেখতে চান। কিন্তু কাবিননামা দেওয়ার পরিবর্তে রানা বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করতে থাকেন। এতে কিশোরীর মনে বিয়ের বৈধতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৭ আগস্ট সকালে রানা কিশোরীর কাছে যৌতুক হিসেবে তিন লাখ টাকা দাবি করেন। তবে কিশোরীর পরিবার তার এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে রানা তাকে গালিগালাজ করেন। একই সঙ্গে তিনি জানান, আইনগতভাবে ওই কিশোরীকে বিয়ে করেননি। এরপর দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন তিনি।

রানার এমন বক্তব্যের পর বিয়ের সত্যতা যাচাই করতে শেরপুরের বিভিন্ন কাজী অফিসে খোঁজ নেন ভুক্তভোগী ও তার স্বজনেরা। সেখানে গিয়ে তারা জানতে পারেন, রানা ও ওই কিশোরীর বিয়ের কোনো কাবিননামা বা নিবন্ধিত নথি নেই। ফলে বিয়ের নামে প্রতারণার বিষয়টি সামনে আসে।

এরপর ভুক্তভোগী নিজে বাদী হয়ে শেরপুর সদর থানায় মামলা করেন। মামলায় অভিযোগ করা হয়, বিয়ের নাটক সাজিয়ে এবং স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্কের বিশ্বাস তৈরি করে কিশোরীর সরলতার সুযোগ নিয়েছেন রানা। এভাবে প্রতারণার মাধ্যমে তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করা হয়েছে।

মামলার পর আসামিকে গ্রেপ্তারে তৎপরতা শুরু করে র‍্যাব। সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সুনির্দিষ্ট তথ্য ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-১৪-এর জামালপুরের সিপিসি-১ এবং র‍্যাব-১১-এর লক্ষ্মীপুরের সিপিসি-৩-এর সদস্যরা যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানের একপর্যায়ে লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ এলাকা থেকে আনোয়ার হোসেন রানাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারের পর তাকে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শেরপুর সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কোম্পানি কমান্ডার মেজর লাবিদ আহমেদ।

ঘটনাটি কিশোরীদের নিরাপত্তা, বিয়ের নামে প্রতারণা এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে আইনি সুরক্ষার বিষয়টি আবারও সামনে এনেছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও মোবাইল ফোনের মাধ্যমে পরিচয়ের সূত্র ধরে গড়ে ওঠা সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রতারণার ঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন থাকার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। তবে মামলার অভিযোগগুলোর সত্যতা আদালতে বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Are you human? Please solve:Captcha


সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।