রাজধানীর মগবাজারে সংগীতশিল্পী আসিফ আকবরের ব্যক্তিগত গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছুড়েছে দুর্বৃত্তরা। শনিবার ভোর পৌনে পাঁচটার দিকে বিশাল সেন্টার মার্কেটের সামনে পার্ক করা গাড়িটিতে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার সময় গাড়িতে ছিলেন না আসিফ আকবর। তবে গুলির শব্দ শুনে এবং সিসিটিভি ফুটেজে ঘটনাটি দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন তাঁর পরিবারের সদস্যরা। এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি।
কে বা কারা তাঁর গাড়িতে গুলি চালিয়েছে, সে বিষয়ে কোনো ধারণা করতে পারছেন না বলে জানিয়েছেন আসিফ আকবরের স্ত্রী সালমা আসিফ মিতু। তাঁর ভাষ্য, আসিফের সঙ্গে কারও বিরোধ বা সন্দেহ করার মতো কোনো ঘটনার কথা তাঁদের জানা নেই। ফলে হঠাৎ এমন ঘটনায় তাঁরা বিস্মিত।
শনিবার সকাল ১০টার দিকে সংবাদমাধ্যম প্রথম আলোর সঙ্গে কথা বলেন সালমা আসিফ মিতু। ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি জানান, আসিফ তাঁকে বলেছেন, কে বা কারা তাঁর গাড়িতে গুলি করে ক্ষতি করেছে, তা তিনি বুঝতে পারছেন না। ওপর থেকে সিসিটিভি ফুটেজে ঘটনাটি দেখেছেন এবং গুলির শব্দও শুনেছেন। পরে নিচে থাকা নিরাপত্তাকর্মী ডাকাডাকি করলে তিনি নিচে নেমে আসেন। সে সময় কাউকে দৌড়ে পালিয়ে যেতে দেখার কথাও জানান তিনি।
সালমা আসিফ মিতু বলেন, ‘আমাদের কাছে সন্দেহজনক কেউ নেই। আমরা এই জীবনে আজ পর্যন্ত কাউকে কখনো সন্দেহ করতে পারিনি। সন্দেহ করার মতো কোনো ঘটনা তো আসিফের সঙ্গে কখনো ঘটেওনি। আসিফ বরাবরই সবার সঙ্গে মিলেমিশে চলেছে। সব সময় ন্যায্য কথা বলেছে। তবে এই ঘটনা অবিশ্বাস্য। বুঝতে পারছি না, কিসের থেকে কী হয়েছে। জানি না, কী হবে।’
ঘটনার পর আসিফ আকবরের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে তাঁর স্ত্রী জানান, তিনি সুস্থ আছেন এবং ঘটনার পর ঘুমাচ্ছিলেন।
সিএনজিচালিত অটোরিকশায় এসে গুলি
এর আগে হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান জানান, মগবাজারের বিশাল সেন্টারে আসিফ আকবরের একটি ব্যক্তিগত কার্যালয় রয়েছে। ভবনটির সামনে পার্ক করা তাঁর ব্যক্তিগত গাড়ি লক্ষ্য করে ভোরের দিকে গুলি চালানো হয়। তবে এ ঘটনায় কেউ আহত হননি।
পুলিশের অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, বিশাল সেন্টার মার্কেটের নিচে পার্কিংয়ের জায়গায় গাড়িটি রাখা ছিল। শনিবার ভোর পৌনে পাঁচটার দিকে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে সেখানে আসেন। এরপর তিনি গাড়িটি লক্ষ্য করে একটি গুলি ছোড়েন।
জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ নম্বরের মাধ্যমে খবর পেয়ে হাতিরঝিল থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশের কাছে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় আসিফ আকবর বিশাল সেন্টারের তৃতীয় তলায় নিজের কার্যালয়ে ছিলেন। ফলে গুলির সময় তিনি গাড়ির ভেতরে ছিলেন না।
পরে গাড়ির পেছনের জানালা খুলে ভেতর থেকে একটি গুলির কার্তুজ উদ্ধার করা হয় বলে পুলিশের অভ্যন্তরীণ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহের মাধ্যমে গুলির ঘটনার বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।
হামলার কারণ নিয়ে ধোঁয়াশা
আসিফ আকবরের গাড়িতে গুলি চালানোর পেছনে কী উদ্দেশ্য ছিল, তা এখনো স্পষ্ট নয়। পুলিশের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিকভাবে হামলাকারীর পরিচয় বা সম্ভাব্য উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিত কোনো তথ্য জানানো হয়নি।
সাধারণত এ ধরনের ঘটনায় হামলাকারীর পরিচয় শনাক্ত করা, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা, প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য সংগ্রহ এবং উদ্ধার হওয়া আলামত পরীক্ষা করা তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ ক্ষেত্রেও এসব তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যেতে পারে। তবে তদন্তের ফল সামনে না আসা পর্যন্ত হামলার উদ্দেশ্য নিয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।
ঘটনার পর আসিফ আকবরের স্ত্রী জানিয়েছেন, তাঁরা কাউকে সন্দেহ করছেন না। তাঁর বক্তব্যে পরিবারের বিস্ময় ও উদ্বেগের বিষয়টি উঠে এসেছে। পরিচিত কারও সঙ্গে বিরোধের কথা তাঁদের জানা না থাকায় গাড়িতে গুলি চালানোর কারণ বুঝতে পারছেন না তাঁরা।
বাংলাদেশের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পীদের একজন আসিফ আকবর। তাঁর ব্যক্তিগত গাড়িকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনা স্বাভাবিকভাবেই আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত না হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে প্রাণহানির কোনো ঘটনা ঘটেনি।
এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে, কে বা কারা এই গুলি চালিয়েছে এবং কেনই বা গাড়িটিকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে, তা শনাক্ত করা। পুলিশের তদন্তে হামলাকারীর পরিচয় ও ঘটনার উদ্দেশ্য সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য বেরিয়ে এলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে।


