ময়মনসিংহে হাম শিশুমৃত্যু বেড়ে চলেছে আবার চিকিৎসা সংকট
খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২২ জুন ২০২৬
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গত ২৪ ঘণ্টায় হামজনিত উপসর্গ নিয়ে আরও এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর ফলে চলমান এই স্বাস্থ্য সংকটে হাসপাতালটিতে মোট মৃত শিশুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫২ জনে। একই সঙ্গে নতুন রোগী ভর্তির সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
মৃত শিশুটি ছিল ৭ মাস বয়সী একটি পুত্রসন্তান। তার বাড়ি ময়মনসিংহ জেলার ত্রিশাল উপজেলার বৈলর এলাকায়। পরিবারের সদস্যদের তথ্য অনুযায়ী, শিশুটিকে ১ জুন হামজনিত উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর রোববার রাত ১১টা ৫০ মিনিটে তার মৃত্যু হয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, রোববার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ে নতুন করে আরও ১৭ জন শিশু হামজনিত উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছে। এদিকে গত ১৭ মার্চ থেকে আজ সকাল পর্যন্ত মোট ২ হাজার ২৭৯ জন শিশু একই ধরনের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে। এর মধ্যে ২ হাজার ১৩০ জন শিশু সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে। বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৯৭ জন শিশু।
চিকিৎসক ও হাসপাতাল প্রশাসনের পর্যবেক্ষণে দেখা যাচ্ছে, আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে বেশিরভাগই টিকাদান কার্যক্রমে পিছিয়ে থাকা বা অসম্পূর্ণ টিকা গ্রহণকারী। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা, স্বাস্থ্য সচেতনতার অভাব এবং সময়মতো টিকা না নেওয়া এই পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলছে।
নিচে সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান তুলে ধরা হলো—
বিষয়বস্তু
সংখ্যা
মোট ভর্তি শিশু (১৭ মার্চ থেকে)
২,২৭৯ জন
সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরা শিশু
২,১৩০ জন
বর্তমানে চিকিৎসাধীন শিশু
৯৭ জন
মোট মৃত্যু
৫২ জন
গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি
১৭ জন
গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু
১ জন
হাসপাতালের জ্যেষ্ঠ স্টোর কর্মকর্তা ঝন্টু সরকার জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে আরও ১৭ জন শিশু নতুন করে ভর্তি হয়েছে। তিনি বলেন, রোগীর চাপ এখনো উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি থাকলেও চিকিৎসক ও নার্সরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
হাসপাতাল প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শিশুদের জন্য আলাদা পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসা ব্যবস্থার পাশাপাশি জরুরি ভিত্তিতে টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি অভিভাবকদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে উপসর্গ দেখা দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া হয়।
স্থানীয় স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে টিকাদানই সবচেয়ে কার্যকর উপায়। তারা মনে করেন, যদি দ্রুত এলাকাভিত্তিক টিকা কাভারেজ বাড়ানো না হয়, তবে পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য বিভাগ উভয়ই চাপের মধ্যে রয়েছে। রোগীর সংখ্যা ওঠানামা করলেও মৃত্যুর ঘটনা জনমনে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। প্রশাসন বলছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে এবং পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রয়েছে।