ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পাশ থেকে তিনটি কার্টনে রাখা এক অজ্ঞাত ব্যক্তির ছয় টুকরো মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের বয়স আনুমানিক ৪৫ থেকে ৫০ বছর বলে ধারণা করা হচ্ছে। এখনো তাঁর পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের বোয়ালিয়া এলাকায় মহাসড়কের পাশ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বোয়ালিয়া এলাকায় মহাসড়কের পাশে তিনটি কার্টন পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় লোকজন ও পথচারীরা। প্রথমে বিষয়টি নিয়ে তেমন গুরুত্ব না দিলেও কিছু সময় পর কার্টনগুলো থেকে তীব্র দুর্গন্ধ বের হতে শুরু করে। এতে স্থানীয়দের সন্দেহ হয়। পরে তারা মধুখালী থানায় খবর দেন।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কার্টনগুলো নিজেদের হেফাজতে নেয়। পরে কার্টন খুলে ভেতরে এক ব্যক্তির ছয় টুকরো মরদেহ দেখতে পাওয়া যায়। ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। মরদেহের পরিচয় শনাক্তের পাশাপাশি কীভাবে এবং কোথায় ওই ব্যক্তিকে হত্যা করা হয়েছে, তা জানার চেষ্টা করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
মধুখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুকদেব রায় ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কার্টনবন্দি অবস্থায় অজ্ঞাত ব্যক্তির ছয় টুকরো মরদেহ উদ্ধার করে।
ওসি বলেন, নিহতের পরিচয় শনাক্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)সহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক দল কাজ করছে। পরিচয় নিশ্চিত করা গেলে নিহতের পারিবারিক ও ব্যক্তিগত তথ্যের পাশাপাশি তাঁর নিখোঁজ হওয়ার কোনো ঘটনা রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হবে।
পুলিশ জানিয়েছে, সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুতের পর মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর ধরন ও হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করছে পুলিশ। তবে হত্যার কারণ, কোথায় হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়েছে এবং মরদেহটি কার্টনে ভরে মহাসড়কের পাশে কীভাবে ফেলে যাওয়া হয়েছে—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো পাওয়া যায়নি।
ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে। একই সঙ্গে নিহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করাকে তদন্তের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। পরিচয় নিশ্চিত হলে তদন্তে নতুন সূত্র পাওয়া এবং হত্যাকাণ্ডের পেছনের কারণ উদ্ঘাটনের পথ আরও পরিষ্কার হতে পারে।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো আসামির নাম বা গ্রেপ্তারের তথ্য জানায়নি পুলিশ। তদন্তের স্বার্থে ঘটনাস্থল ও মরদেহ উদ্ধারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তথ্যও যাচাই করা হচ্ছে।


