কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় মাকে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই ভাইয়ের মধ্যে সংঘর্ষে রিয়াদ মিয়া (২০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার মঠখোলা ইউনিয়নের চরদেওকান্দি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত বড় ভাই হৃদয় মিয়াকে আটক করেছে পুলিশ।
নিহত রিয়াদ মিয়া ও অভিযুক্ত হৃদয় মিয়া ওই এলাকার মৃত আবুল কাশেমের ছেলে। স্থানীয়দের ভাষ্য, রিয়াদ মাদকাসক্ত ছিলেন এবং মাদকের টাকা জোগাড় করা নিয়ে তিনি প্রায়ই পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বিবাদে জড়াতেন। অভিযোগ রয়েছে, ঘটনার দিনও মাদকের টাকা চেয়ে তিনি মাকে মারধর করেন।
স্থানীয়রা জানান, হৃদয় মিয়া ঢাকায় থাকেন। ঘটনার দিন তিনি বাড়িতে ফিরে জানতে পারেন, মাদকের টাকার জন্য তার ছোট ভাই রিয়াদ মাকে মারধর করেছেন। বিষয়টি জানার পর হৃদয় রিয়াদের কাছে ঘটনার কারণ জানতে চান। এ নিয়ে দুই ভাইয়ের মধ্যে প্রথমে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতি ও সংঘর্ষে রূপ নেয়।
পুলিশ ও স্থানীয়দের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঝগড়ার একপর্যায়ে হৃদয় একটি ছুরি দিয়ে রিয়াদের বুকে আঘাত করেন। এতে রিয়াদ গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পাকুন্দিয়া থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং অভিযুক্ত হৃদয় মিয়াকে আটক করে। নিহতের মরদেহের পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়া নিয়েও কাজ করছে পুলিশ।
পাকুন্দিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত হৃদয় মিয়াকে আটক করেছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
পরিবার ও স্থানীয়দের বর্ণনায় ঘটনাটি মূলত মাকে মারধরকে কেন্দ্র করে দুই ভাইয়ের বিরোধ থেকে ঘটেছে বলে জানা গেছে। তবে ছুরিকাঘাতের সুনির্দিষ্ট পরিস্থিতি, ঘটনার আগে দুই ভাইয়ের মধ্যে কী ধরনের বিরোধ হয়েছিল এবং ব্যবহৃত অস্ত্রটি কোথা থেকে এসেছে—এসব বিষয় তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে।
একটি পারিবারিক বিরোধ কীভাবে অল্প সময়ের মধ্যে প্রাণঘাতী সংঘর্ষে পরিণত হলো, সেটিই এখন তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব দিক খতিয়ে দেখে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।


