মাগুরার শালিখা উপজেলায় পৈতৃক জমি নিয়ে বিরোধের জেরে বড় ভাইয়ের লাঠির আঘাতে মাসুদ গাজী (৪৫) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে উপজেলার নাঘোষা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই নারীকে আটক করেছে পুলিশ।
নিহত মাসুদ গাজী ও অভিযুক্ত সিদ্দিক গাজী আপন ভাই। তাঁদের বাবার রেখে যাওয়া জমির মালিকানা ও বণ্টন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল বলে জানা গেছে। সেই বিরোধের জেরেই মঙ্গলবার সকালে দুই ভাইয়ের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি সহিংস রূপ নেয়।
শালিখা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশিকুর রহমান জানান, জমি নিয়ে বিরোধের একপর্যায়ে সিদ্দিক গাজী তাঁর ছোট ভাই মাসুদ গাজীকে লাঠি দিয়ে আঘাত করেন। এতে মাসুদ গুরুতর আহত হন এবং ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
ঘটনার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেয় এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করে। এ ঘটনায় সিদ্দিক গাজীর স্ত্রী কাকলী বেগম এবং তাঁদের ছোট ভাই বাবুল গাজীর স্ত্রী সেতু বেগমকে আটক করেছে পুলিশ। তবে তাঁদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের বিস্তারিত এবং ঘটনার সময় তাঁদের প্রত্যেকের ভূমিকা সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানা যায়নি।
পুলিশ জানায়, নিহত মাসুদ গাজীর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মাগুরা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর কারণ ও আঘাতের ধরন সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যেতে পারে। ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত, তা নিশ্চিত করতে পুলিশ তদন্ত করছে।
পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে পারিবারিক বিরোধ বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় কখনো কখনো সহিংসতার রূপ নেয়। জমির মালিকানা, সীমানা নির্ধারণ, উত্তরাধিকার এবং সম্পত্তি ভাগাভাগি নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে তা আইনি প্রক্রিয়ায় সমাধানের সুযোগ রয়েছে। তবে বিরোধের জেরে সহিংসতায় জড়িয়ে পড়লে প্রাণহানির মতো মর্মান্তিক ঘটনা ঘটতে পারে, যা সংশ্লিষ্ট পরিবার ও স্বজনদের জন্য অপূরণীয় ক্ষতির কারণ হয়।
নাঘোষা গ্রামের এ ঘটনায়ও পৈতৃক জমি নিয়ে বিরোধের পরিণতিতে একটি প্রাণহানির অভিযোগ সামনে এসেছে। এখন তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার পেছনের পরিস্থিতি, হামলার প্রকৃত কারণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা স্পষ্ট হওয়ার অপেক্ষা। পুলিশের পরবর্তী তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।



