নিহত দুজন হলেন শ্রীপুর উপজেলার সব্দালপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা বিনয় বিশ্বাসের ছেলে বিধান বিশ্বাস (২২) এবং একই উপজেলার বাকিরা গ্রামের আদম লস্করের ছেলে আলমগীর লস্কর (৩৮)।
নিহতদের পরিবারের সদস্যদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, গত বুধবার (২১ অক্টোবর) রাতে বিধান ও আলমগীর মদপান করার পর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাঁদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। কিন্তু অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় পরে গভীর রাতে তাঁদের মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার সকালে দুজনের মৃত্যু হয়।
বিধান বিশ্বাসের চাচি সুপ্রিয়া সাহা জানান, বুধবার রাতে মদপানের পর বিধান ও আলমগীর অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরিস্থিতি গুরুতর হয়ে উঠলে তাঁদের হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে কী ধরনের পানীয় তাঁরা পান করেছিলেন এবং সেটির সঙ্গে মৃত্যুর সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানা যায়নি।
মাগুরা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক ইমরান হোসেন জানান, দুই যুবকের মরদেহ মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হওয়ার পর তাঁদের মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। প্রাথমিকভাবে মদজাতীয় কোনো কিছু পান করার কারণে এমনটি হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এদিকে, শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অলি মিয়া জানান, প্রাথমিক তদন্তে মদপানের কারণে দুই যুবকের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে মনে হচ্ছে। তবে তদন্ত ও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার আগে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা সম্ভব নয়।
মদপানের পর অসুস্থ হয়ে দুজনের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে তাঁরা যে পানীয় পান করেছিলেন, সেটির প্রকৃতি ও উপাদান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া জরুরি। কোনো পানীয়তে বিষাক্ত বা ক্ষতিকর রাসায়নিক মিশে থাকলে তা গুরুতর অসুস্থতা এমনকি মৃত্যুর কারণও হতে পারে। তবে এই ঘটনায় তেমন কিছু ঘটেছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
দুই যুবকের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নির্ধারণে ময়নাতদন্তের ফল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে তাঁরা কী পান করেছিলেন এবং অসুস্থ হওয়ার পর কী ধরনের চিকিৎসা পেয়েছিলেন, সেসব তথ্যও তদন্তে প্রাসঙ্গিক হতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।


