বিশ্বকাপ ফুটবলের কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে পর্তুগালের বিদায়ের পর টানা ৪৪ দিনের লম্বা বিরতি শেষে আবারও প্রতিযোগিতামূলক ফুটবল মাঠে নামলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। আর ক্লাবের হয়ে নিজের প্রত্যাবর্তনের ম্যাচটিকে এক অনন্য বিশ্ব রেকর্ডে স্মরণীয় করে রাখলেন ৪১ বছর বয়সী এই পর্তুগিজ মহাতারকা। বিশ্বের প্রথম ফুটবলার হিসেবে পেশাদার ক্যারিয়ারে টানা ২৫টি লিগ মৌসুমে অন্তত একটি করে গোল করার এক অবিশ্বাস্য ও কালজয়ী কীর্তি স্থাপন করলেন তিনি।
সৌদি প্রো লিগের হাইভোল্টেজ ম্যাচে আল রিয়াদের মুখোমুখি হয়েছিল আল নাসর। একপেশে এই ম্যাচে আল রিয়াদকে ৪-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছে আল নাসর। এই ম্যাচে গোল করার মাধ্যমেই রোনালদো পেছনে ফেলেছেন সুইডিশ কিংবদন্তি ফরোয়ার্ড জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচকে। ইব্রাহিমোভিচ তাঁর বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে ১৯৯৯-২০০০ মৌসুম থেকে শুরু করে ২০২২-২৩ মৌসুম পর্যন্ত টানা ২৪টি লিগ মৌসুমে গোল করে এই বিশ্ব রেকর্ডের একক মালিক ছিলেন। গত মৌসুমে সৌদি প্রো লিগে গোল করে ইব্রাহিমোভিচের সেই রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছিলেন রোনালদো। আর চলতি মৌসুমে আবার লক্ষ্যভেদ করে ইব্রাকে ছাড়িয়ে রেকর্ডটি সম্পূর্ণ নিজের করে নিলেন তিনি।
নতুন মৌসুমের শুরুতে আল নাসরের প্রথম দুটি ম্যাচে দলে ছিলেন না রোনালদো। সৌদি ক্লাব কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বাড়তি ছুটি নিয়ে তিনি পর্তুগালে বান্ধবী জর্জিনা রদ্রিগেজের সঙ্গে বিয়ের সব আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন। ছুটি শেষে সৌদি আরবে ফেরার পর আল নাসরের কোচ আঞ্জে পোস্তেকোগলু তাকে প্রথম একাদশে না রেখে প্রথমার্ধের জন্য বেঞ্চে বসিয়ে রাখার সিদ্ধান্ত নেন।
ম্যাচের ৬২ মিনিটে বদলি ফুটবলার হিসেবে যখন রোনালদো মাঠে প্রবেশ করেন, ততক্ষণে মাঠের চালচিত্র পুরোপুরি আল নাসরের নিয়ন্ত্রণে। আবদুলেলাহ আল-আমরি, অ্যাঞ্জেলো গ্যাব্রিয়েল এবং নতুন সতীর্থ জোয়াও ফেলিক্সের দৃষ্টিনন্দন গোলে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে ছিল দলটি। মাঠে নামার মাত্র ২১ মিনিটের মাথায় জালের দেখা পান রোনালদো। ম্যাচের ৮৩ মিনিটে সতীর্থ আইমান ইয়াহইয়ার বাড়ানো নিচু ক্রস বক্সে পেয়ে যান রোনালদো। অত্যন্ত নিখুঁত পজিশনিং দেখায়ে বাঁ পায়ের জোরালো শটে বল প্রতিপক্ষের জালে জড়িয়ে দেন তিনি।
এই চোখধাঁধানো গোলের মধ্য দিয়ে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর পেশাদার ক্যারিয়ারের মোট অফিসিয়াল গোলসংখ্যা গিয়ে দাঁড়াল ৯৭৭-এ। ইতিহাসের প্রথম ফুটবলার হিসেবে অলৌকিক ১ হাজার অফিশিয়াল গোলের মাইলফলক ছুঁতে এখন আর মাত্র ২৩টি গোল প্রয়োজন এই পর্তুগিজ অধিনায়কের। আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংবাদমাধ্যম ইএসপিএন ও মার্কা রোনালদোর এই ঐতিহাসিক মাইলফলক অর্জনের সংবাদটি বিশ্বজুড়ে গুরুত্বের সাথে প্রকাশ করেছে।


