বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক তারকা ফাস্ট বোলার শফিউল ইসলামের মা আর নেই। বুধবার (১৯ আগস্ট) সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আবেগঘন বার্তার মাধ্যমে নিজের পরম শ্রদ্ধেয় মায়ের মৃত্যুর খবর নিজেই নিশ্চিত করেছেন এই ক্রিকেটার।
নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে শফিউল লিখেন, অত্যন্ত ভারাক্রান্ত হৃদয়ে জানাচ্ছি যে, আমার পরম শ্রদ্ধেয় মা আজ সকাল ৮:৩০ মিনিটে আমাদের সবাইকে ছেড়ে পরপারের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছেন। (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তিনি আরও যোগ করেন, মহান আল্লাহ তাআলা যেন আমার আম্মাকে জান্নাতুল ফেরদাউস নসীব করেন এবং তার সমস্ত ভুলত্রুটি ক্ষমা করে দেন। আপনারা সবাই আমার মায়ের জন্য দোয়া করবেন এবং কোনো ভুলত্রুটি হয়ে থাকলে তা ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
জাতীয় দলের হয়ে দুর্দান্ত পথচলা ছিল ডানহাতি এই গতি তারকার। ২০১০ সালে ঘরের মাঠে ভারতের বিপক্ষে চট্টগ্রাম টেস্ট দিয়ে টেস্ট ক্রিকেটে অভিষেক ঘটে তাঁর। একই বছর এশিয়া কাপে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটেও লাল-সবুজের জার্সিতে পদার্পণ করেন তিনি। নতুন বলে সুইং এবং চমৎকার লাইন-লেংথের কারণে দ্রুতই দলের আস্থাভাজন বোলারদের তালিকায় নিজের জায়গা করে নেন শফিউল। বিশেষ করে ২০১১ ঘরের মাঠের বিশ্বকাপে ভারতের বিরুদ্ধে এবং চট্টগ্রামের মাঠে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ে তাঁর নিয়ন্ত্রিত বোলিং ভূমিকা রেখেছিল।
বাংলাদেশের হয়ে দীর্ঘ ক্যারিয়ারে ১১টি টেস্ট, ৬০টি ওয়ানডে এবং ২০টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন এই পেসার। তিন সংস্করণ মিলিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে শফিউলের প্রাপ্তি ১০৭টি মূল্যবান উইকেট। ইনজুরি এবং পারফর্ম্যান্সের উত্থান-পতনের কারণে মাঝে মাঝেই তিনি দল থেকে ছিটকে গিয়েছিলেন, তবুও প্রতিবারই ঘরোয়া ক্রিকেটে পারফর্ম করে জাতীয় দলে ফিরে এসেছেন।
দেশের জার্সিতে শফিউলকে সবশেষ মাঠে দেখা গিয়েছিল ২০২০ সালে সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে ওয়ানডে সিরিজে। এরপর থেকে জাতীয় দলের বাইরেই ছিলেন তিনি। দীর্ঘদিন দলের বাইরে থাকার পরচলতি বছরের ৫ জানুয়ারি সব ধরনের পেশাদার ক্রিকেট থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবসরের ঘোষণা দেন ৩৬ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার। জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করার পর হঠাৎ করেই মাতৃহারা হলেন জাতীয় দলের এই সাবেক পেসার। প্রিয়জন হারানোর এই কঠিন সময়ে শফিউলের পরিবারকে সমবেদনা জানিয়েছেন ভক্ত-সমর্থক ও ক্রিকেট সহকর্মীরা।

