জামালপুরের মাদারগঞ্জে সাত বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করে ঘরের মেঝেতে পুঁতে রাখার অভিযোগ উঠেছে তার সহপাঠীর বাবার বিরুদ্ধে। পুলিশ বলছে, আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে অভিযুক্ত জামিনুর ইসলাম (৩২) ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন।
গত বৃহস্পতিবার সকালে স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রথম শ্রেণিতে পড়ুয়া শিশুটি বিদ্যালয়ে যায়। এরপর থেকেই তার কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। নিখোঁজের দুই দিন পর শনিবার রাতে জামিনুরের বসতঘরের মেঝেতে মাটিচাপা অবস্থায় শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, বিদ্যালয়টির কাছেই জামিনুর ইসলামের বাড়ি। তাঁর মেয়ের সহপাঠী হওয়ায় শিশুটির ওই বাড়িতে নিয়মিত যাতায়াত ছিল। বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়ার পথে কিংবা বিদ্যালয় শেষে সে জামিনুরের মেয়ের সঙ্গে খেলাধুলা করত। সেই পরিচয়ের সূত্র ধরেই ঘটনার দিন শিশুটি জামিনুরের বাড়িতে যায় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
জামালপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (মাদারগঞ্জ সার্কেল) মোস্তাফিজুর রহমান গতকাল রোববার রাতে মাদারগঞ্জ থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার বিদ্যালয় থেকে শিশুটি জামিনুরের বাড়িতে গেলে সেখানে তখন তাঁর স্ত্রী সবুজা (২৫) ছিলেন না। তিনি সন্তানদের নিয়ে তাঁর বোনের বাড়িতে রান্না করতে গিয়েছিলেন। বাড়িতে অন্য কেউ না থাকার সুযোগে জামিনুর শিশুটির ওপর যৌন নির্যাতন করেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশের দাবি, নির্যাতনের পর জামিনুর ওড়না পেঁচিয়ে শিশুটিকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। এরপর মরদেহ নিজের ঘরের মেঝেতে গর্ত করে মাটিচাপা দিয়ে রাখেন। নিখোঁজ শিশুটির সন্ধান চলার মধ্যেই শনিবার রাতে ওই ঘর থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার পর শনিবার রাতেই জামিনুর ইসলাম ও তাঁর স্ত্রী সবুজাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে নিহত শিশুটির বাবা বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। গ্রেপ্তার দুজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
সহকারী পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জামিনুর ঘটনার বিস্তারিত জানিয়েছেন। তবে মামলার তদন্ত, জবানবন্দি এবং অন্যান্য প্রমাণের ভিত্তিতেই অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ সত্যতা বিচারিক প্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।
শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায় শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্বজনেরা এ ঘটনার কঠোর বিচার দাবি করেছেন। শিশুটির মামা বলেন, এত ছোট একটি শিশুর ওপর এমন নিষ্ঠুরতা কীভাবে চালানো হলো, তা তাঁরা মেনে নিতে পারছেন না। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তবে তাঁর দাবি, দ্রুত বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।
এ ঘটনায় শিশুটির পরিবারে গভীর শোক নেমে এসেছে। একটি শিশুর নিখোঁজ হওয়ার পর তার মরদেহ বাড়ির মেঝের নিচ থেকে উদ্ধারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও আতঙ্ক ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। এখন মামলার তদন্তে ঘটনার সব দিক কীভাবে উঠে আসে এবং আদালতে অভিযোগের কী পরিণতি হয়, সেদিকেই নজর রয়েছে।


