খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৫ই আগস্ট ২০২৬, ৯:৪৩ পিএম
মাদারীপুরের কালকিনিতে একটি মহিলা মাদ্রাসায় আচমকা হাতবোমা (ককটেল) বিস্ফোরণের মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (১৫ আগস্ট) সকালে কালকিনি পৌর এলাকার গোপালপুর দারুসসুন্নাহ মহিলা মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। এতে ঘটনাস্থলে থাকা চার শিশু শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সকালে শিক্ষার্থীরা প্রতিদিনের মতোই মাদ্রাসা চত্বরে অবস্থান করছিল। ঠিক সেই মুহূর্তে মাদ্রাসার একদম লাগোয়া স্থানীয় বাসিন্দা ইমন সরদারের বসতঘরের সামনের অংশে হঠাৎ একটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। প্রচণ্ড শব্দে পুরো এলাকা কেঁপে ওঠে এবং মুহূর্তের মধ্যে সেখানে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ককটেলের স্প্লিন্টারের আঘাতে মাদ্রাসায় অধ্যায়নরত চার শিশু শিক্ষার্থী আবিদা (৮), জান্নাত (৯), মিনহা (১০) ও মাইমুনা (৯) রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়ে।
ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা ও মাদ্রাসার শিক্ষকেরা দ্রুত এগিয়ে আসেন। তাঁরা সংকটাপন্ন অবস্থায় আহত চার শিক্ষার্থীকে উদ্ধার করে দ্রুত কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী কয়েকজনকে জেলা সদর হাসপাতালেও পাঠানো হয়।
ঘটনার আকস্মিকতা নিয়ে বসতঘরের মালিক ইমন সরদার জানান, তাঁর ঘরের সামনে কে বা কারা এই হাতবোমা রেখে গেছে কিংবা কীভাবে এটি বিস্ফোরিত হলো, সে সম্পর্কে তিনি কিছুই বুঝতে পারছেন না। অন্যদিকে মাদ্রাসার মুহতামিম হাফিজুর রহমান ঘটনার তীব্র ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করে জানান, কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণটি ঘটে। এত ছোট ছোট কোমলমতি শিশুদের ওপর এই ধরনের মর্মান্তিক আঘাত অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
বিস্ফোরণের খরব পেয়ে কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জহিরুল আলমের নেতৃত্বে পুলিশের একটি বিশেষ দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তারা আলামত সংগ্রহ করার পাশাপাশি পুরো মাদ্রাসা ও আশপাশের এলাকা পরিদর্শন করে।
কালকিনি থানার ওসি মো. জহিরুল আলম জানান, খবর পাওয়ার পর পরই পুলিশ সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। কীভাবে এবং কোন উদ্দেশ্যে সেখানে ককটেলটি আনা হয়েছিল কিংবা এটি পূর্বপরিকল্পিত কোনো ঘটনা কি না, তা গভীরভাবে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে এই ঘটনার নেপথ্যে থাকা অপরাধীদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কৃষি ও জনবসতিপ্রধান মাদারীপুর জেলায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কাছাকাছি এমন ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় স্থানীয় অভিভাবকদের মনে চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। কোমলমতি শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে দ্রুত অপরাধিদের গ্রেপ্তারের জোর দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
মন্তব্য