খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৭ই জুলাই ২০২৬, ৯:১৮ এএম
ময়মনসিংহ নগরের একটি ভাড়াবাসায় রাজিব আহম্মেদ রুবেল (৪০) নামে এক যুবকের হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। সংস্থাটির ভাষ্য অনুযায়ী, বাড়িওয়ালা নারীকে মারধর ও শ্লীলতাহানির ঘটনার জেরে তার চার ছেলে ক্ষোভে পরিকল্পিতভাবে রুবেলকে হত্যা করেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত চার ভাইকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন রহমত (৩০), জনি (২৮), রকি (২৬) ও ইমরাজ (১৮)। সোমবার বিকেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান হত্যাকাণ্ডের তদন্তে পাওয়া বিভিন্ন তথ্য তুলে ধরেন।
পিবিআই জানায়, প্রায় এক মাস আগে রুবেল ময়মনসিংহ নগরের ছত্রিশবাড়ি কলোনি এলাকার ওই বাড়ির একটি কক্ষ ভাড়া নেন। তবে কিছুদিনের মধ্যেই তার চলাফেরা ও আচরণ নিয়ে বাড়ির মালিক পারুলের আপত্তি তৈরি হয়। তদন্তে উঠে এসেছে, রুবেল নিয়মিত বিভিন্ন ব্যক্তিকে বাসায় নিয়ে আড্ডা দিতেন এবং সেখানে মাদক সেবনের অভিযোগও ছিল। এসব কারণে বাড়ির মালিক তাকে পরবর্তী মাস থেকে বাসা ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু রুবেল ওই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে রাজি হননি এবং জোর করে সেখানে অবস্থান করতে চান বলে দাবি করেছে তদন্ত সংস্থা।
পিবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন সকালে রুবেল বাড়িওয়ালা ও তার ছেলের কক্ষের দরজায় লাথি মেরে তাদের ঘুম থেকে তোলেন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে কথাকাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে রুবেল বাড়ির মালিককে মারধর করেন এবং তার শ্লীলতাহানির অভিযোগ ওঠে। এই ঘটনার পর বাড়ির মালিকের চার ছেলে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে প্রতিশোধ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন বলে তদন্তে জানা গেছে।
সংস্থাটির দাবি, পরিকল্পনা অনুযায়ী চার ভাই একটি চায়নিজ কুড়াল ব্যবহার করে রুবেলের গলায় আঘাত করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়ার পর অভিযুক্তরা দ্রুত এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যান।
এ ঘটনায় নিহত রুবেলের বাবা বাদী হয়ে বাড়ির মালিক, তার তিন ছেলেসহ মোট ১১ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। পাশাপাশি অজ্ঞাতপরিচয় আরও তিন থেকে চারজনকে আসামি করা হয়। মামলার তদন্তের দায়িত্ব পেয়ে পিবিআই বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ, ঘটনাস্থল পরিদর্শন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করে। তদন্তের একপর্যায়ে চার ভাইকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান জানান, গ্রেপ্তার চার ভাই প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মায়ের সঙ্গে দুর্ব্যবহার, মারধর ও শ্লীলতাহানির ঘটনার কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তবে মামলার তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে। ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত ছিল কি না, অথবা হত্যার পেছনে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
এর আগে সোমবার সকালে ময়মনসিংহ নগরের ছত্রিশবাড়ি কলোনি এলাকার ওই ভাড়াবাসা থেকে রাজিব আহম্মেদ রুবেলের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত রুবেল নগরের রামকৃষ্ণ মিশন রোড এলাকার মৃত আব্দুল হামিদের ছেলে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, ভাড়াবাসাকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিরোধ, ব্যক্তিগত ক্ষোভ কিংবা সহিংস পরিস্থিতি কখনোই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার সুযোগ তৈরি করে না। কোনো অপরাধ বা অভিযোগের ক্ষেত্রে আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে প্রতিকার চাওয়াই একমাত্র গ্রহণযোগ্য পথ। এই হত্যাকাণ্ডের সব দিক তদন্ত করে আদালতে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পিবিআই।
মন্তব্য