বাংলা গানের জনপ্রিয় শিল্পী আসিফ আকবর এবার কণ্ঠ দিয়েছেন গীতিকবি ও সুরকার মাহবুবুল খালিদের কথা ও সুরে তৈরি নতুন গান ‘সখি তুই কি তেল মাখিস চুলে’-তে। রোমান্টিক আবহের গানটিতে প্রেম, রূপ আর প্রিয় মানুষের প্রতি মুগ্ধতার অনুভূতি ফুটে উঠেছে লোকজ শব্দ ও সহজ-সাবলীল প্রকাশভঙ্গিতে। চেনা বাংলার ভাষা ও উপমায় সাজানো গানটি শ্রোতাদের কাছে নতুন এক সংগীত-অনুভূতি নিয়ে হাজির হতে যাচ্ছে।
গানের কথায় রয়েছে গ্রামবাংলার পরিচিত অনুষঙ্গ—চুলে তেলের সুবাস, শাড়ির আঁচলের দোলা আর নূপুরের ঝংকার। প্রিয় মানুষের সৌন্দর্যে মুগ্ধ এক প্রেমিকের আবেগই এখানে মূল উপজীব্য। গানের কয়েকটি পঙ্ক্তি এমন—‘সখি তুই কি তেল মাখিস চুলে/ কী শাড়ি পরিস তুই, হাওয়ায় আঁচল দুলে/ তোর নূপুর বাজে ঘুঙুর ঘুঙুর/ রূপে আগুন জ্বলে।’
সহজ কথার মধ্যে প্রেমের আকর্ষণ ও মুগ্ধতা প্রকাশের চেষ্টা রয়েছে গানটিতে। বিশেষ করে ‘সখি’, ‘আঁচল’ ও ‘নূপুর’-এর মতো পরিচিত শব্দের ব্যবহার বাংলা লোকজ গানের ঐতিহ্যকে মনে করিয়ে দেয়। আধুনিক সংগীতের নানা আয়োজনের মধ্যেও এ ধরনের শব্দ ও চিত্রকল্প শ্রোতাদের পরিচিত সাংস্কৃতিক আবহের সঙ্গে সংযোগ তৈরি করতে পারে।
শিগগির প্রকাশিত হবে গানের সংগীতচিত্র
‘সখি তুই কি তেল মাখিস চুলে’ গানের সংগীতচিত্র খুব শিগগির প্রকাশ করা হবে। গানটির সংগীতচিত্র প্রকাশের জন্য নির্ধারিত মাধ্যম ‘খালিদ সংগীত’-এর ইউটিউব চ্যানেল ও ফেসবুক পেজ। এরই মধ্যে একই নামের ওয়েবসাইটে গানটির অডিও শ্রোতাদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে।
আসিফ আকবরের কণ্ঠে গানটি প্রকাশের মধ্য দিয়ে মাহবুবুল খালিদের গানের ভান্ডারে যুক্ত হলো আরেকটি রোমান্টিক সৃষ্টি। আসিফ আকবর বাংলা আধুনিক গানের শ্রোতাদের কাছে পরিচিত মুখ। তাঁর কণ্ঠের স্বতন্ত্র প্রকাশভঙ্গি ও আবেগনির্ভর গায়কির কারণে নতুন গানটি নিয়েও শ্রোতাদের আগ্রহ তৈরি হওয়ার সুযোগ রয়েছে। তবে গানটির শ্রোতাপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে জানতে হলে প্রকাশের পরের পরিস্থিতি দেখতে হবে।
পাঁচ শতাধিক গান নিয়ে বিস্তৃত সৃষ্টিভুবন
মাহবুবুল খালিদ বাংলাদেশের সংগীত ও সাহিত্যাঙ্গনে নিয়মিত সৃষ্টিশীল কাজ করে যাচ্ছেন। তাঁর লেখা গান নিজস্ব ওয়েবসাইটের পাশাপাশি ‘খালিদ সংগীত’ ব্যানারে ইউটিউব, ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হচ্ছে। এ পর্যন্ত তাঁর লেখা পাঁচ শতাধিক গান প্রকাশ পেয়েছে বলে জানা গেছে। এসব গানে কণ্ঠ দিয়েছেন দেশের বিভিন্ন প্রজন্মের জনপ্রিয় সংগীতশিল্পীরা।
তাঁর গানের বিষয়বৈচিত্র্য উল্লেখ করার মতো। প্রেম, ভালোবাসা ও ব্যক্তিগত অনুভূতির পাশাপাশি সমাজের নানা অসংগতি, মানবিক সংকট, নির্যাতন এবং আলোচিত ঘটনাও তাঁর সৃষ্টিতে স্থান পেয়েছে। ফলে তাঁর গান কেবল বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে নয়, সামাজিক বাস্তবতা তুলে ধরার একটি শিল্পমাধ্যম হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে।
ঢাকার মিরপুরে নির্যাতনের শিকার শিশু গৃহকর্মী আদুরিকে নিয়ে তিনি লিখেছেন ‘আদুরি’। সীমান্তে ফেলানী হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপটে তাঁর লেখা ‘ফেলানীরে করল গুলি’ গানেও উঠে এসেছে নির্মম এক বাস্তবতার কথা। এসব গানে ব্যক্তিগত আবেগের বাইরে গিয়ে সমাজের বেদনাদায়ক ঘটনা এবং মানুষের বিবেককে নাড়া দেওয়ার মতো বিষয় তুলে ধরার চেষ্টা রয়েছে।
মাগুরায় শিশু আছিয়ার ওপর নির্যাতনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে মাহবুবুল খালিদের লেখা ‘মাগুরার ফুল’ গানটিও মানবিক মূল্যবোধ ও সামাজিক দায়িত্ববোধের প্রশ্ন সামনে এনেছে। সাম্প্রতিক সময়ে ‘রামিসার বিচার’ শিরোনামেও গান লিখেছেন তিনি। এসব সৃষ্টিতে নির্যাতনের শিকার মানুষের প্রতি সংহতি প্রকাশের পাশাপাশি অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের সুর শোনা যায়।
দেশ ছাড়িয়ে আন্তর্জাতিক মানবিক সংকটও গানে
মাহবুবুল খালিদের সৃষ্টির বিষয়বস্তু শুধু বাংলাদেশের সামাজিক বাস্তবতায় সীমাবদ্ধ নয়। ফিলিস্তিনের সংকট এবং রোহিঙ্গাদের দুর্দশা নিয়েও গান লিখেছেন তিনি। যুদ্ধ, বাস্তুচ্যুতি, নির্যাতন ও মানবিক বিপর্যয়ের মতো বিষয়কে গানের ভাষায় তুলে ধরে মানুষের মধ্যে সহমর্মিতা ও সচেতনতা জাগানোর প্রয়াস রয়েছে তাঁর এসব কাজে।
বাংলা গানের একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হলো সাধারণ মানুষের অনুভূতি ও অভিজ্ঞতাকে সহজ ভাষায় প্রকাশ করার ক্ষমতা। কখনো প্রেমের আবেগ, কখনো সামাজিক প্রতিবাদ, আবার কখনো মানবিক সংকট—বিভিন্ন বিষয়কে সংগীতের মাধ্যমে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া যায়। মাহবুবুল খালিদের গানের বিষয়বৈচিত্র্যে সেই প্রচেষ্টার প্রতিফলন দেখা যায়।
এবার তাঁর সেই বিস্তৃত সৃষ্টিধারায় যুক্ত হলো আসিফ আকবরের কণ্ঠে ‘সখি তুই কি তেল মাখিস চুলে’। প্রেম ও রূপের মুগ্ধতা নিয়ে তৈরি গানটি একদিকে লোকজ শব্দের সৌন্দর্য ধারণ করেছে, অন্যদিকে জনপ্রিয় শিল্পীর কণ্ঠে নতুনভাবে শ্রোতাদের সামনে আসার অপেক্ষায় রয়েছে। গানটির সংগীতচিত্র প্রকাশের পর এর দৃশ্যায়ন ও সংগীতায়োজন কীভাবে গানের কথার আবহকে ফুটিয়ে তোলে, সেটিও শ্রোতাদের আগ্রহের বিষয় হয়ে উঠতে পারে।



