টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে মাকে মারধর এবং মাদক সেবনের অভিযোগে তিন যুবককে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক জহিরুল আলম এ দণ্ড দেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন উপজেলার গোড়াই ইউনিয়নের রাকেরটেকি এলাকার আব্দুল কাদেরের ছেলে সাগর মিয়া, গন্ধব্যপাড়া এলাকার গোলাম মোস্তফার ছেলে মোস্তাকিন আহমেদ এবং উত্তর গন্ধব্যপাড়া এলাকার আব্দুল সাত্তারের ছেলে বজলুর রহমান। এর মধ্যে সাগর মিয়াকে ছয় মাসের কারাদণ্ড এবং মোস্তাকিন আহমেদ ও বজলুর রহমানকে সাত দিন করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সাগর মিয়া পেশায় অটোরিকশাচালক। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি মাদক সেবন করেন এবং পারিবারিক বিরোধের জেরে মাঝেমধ্যে তার মাকে মারধর করে আহত করতেন। ছেলের এমন আচরণে অতিষ্ঠ হয়ে শেষ পর্যন্ত তার মা মির্জাপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।
ওই অভিযোগের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার সকালে পুলিশ সাগর মিয়াকে আটক করে। একই সময় মাদক সেবনের অভিযোগে মোস্তাকিন আহমেদ ও বজলুর রহমানকেও আটক করা হয়। পরে তাদের মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে নেওয়া হয়।
সেখানে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক জহিরুল আলম শুনানি শেষে তিনজনকে পৃথক মেয়াদে কারাদণ্ড দেন। আদালতের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সাগর মিয়াকে ছয় মাস এবং মোস্তাকিন আহমেদ ও বজলুর রহমানকে সাত দিন করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আদালতের দণ্ডাদেশের পর বৃহস্পতিবার দুপুরে তিনজনকে টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মির্জাপুরের দেওহাটা পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) সোহেল বলেন, তিনজনকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারকের কাছে হাজির করা হলে বিচারক একজনকে ছয় মাস এবং অপর দুজনকে সাত দিন করে কারাদণ্ড দেন। পরে তাদের টাঙ্গাইল জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয়ভাবে ঘটনাটি নিয়ে আলোচনা হলেও পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে দণ্ডের বাইরে অতিরিক্ত কোনো তথ্য জানানো হয়নি। মায়ের লিখিত অভিযোগের পর ছেলের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি মাদক সেবনের অভিযোগে আরও দুই যুবকের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সাজা দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।



