খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ই নভেম্বর ২০২৫, ১১:৫১ এএম
মিরপুরে দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনেই যেন রচনা হলো রূপকথার মতো এক সকাল। দিনের শুরুতেই বাংলাদেশের ড্রেসিং রুমে ছড়িয়ে পড়ে উৎসবের আবহ। কারণ, টাইগারদের অভিজ্ঞ ব্যাটার মুশফিকুর রহিম তুলে নিলেন তার ক্যারিয়ারের অন্যতম স্মরণীয় সেঞ্চুরি—নিজের শততম টেস্টে শতরান। ক্রিকেট ইতিহাসে এমন অর্জন খুব কম ক্রিকেটারের ঝুলিতেই আছে। মুশফিক শুধু সেই অভিজাত তালিকায় নাম লেখাননি, বরং তার ইনিংস দিয়ে দলের ভিত্তিটাকেও করে দেন অটুট।
সকালের সেশনে তার প্রতিটি রান ছিল দৃঢ়তা, মনোযোগ আর অভিজ্ঞতার অনন্য মিশ্রণ। শুরুতে ধীরস্থির থাকলেও সুযোগ পেলেই বাউন্ডারি হাঁকান। স্পিনারদের বিপক্ষে দারুণ ফুটওয়ার্ক আর পেসারদের নার্ভ টেস্ট করার মতো আত্মবিশ্বাস—সব মিলিয়ে মুশফিকের ইনিংসটি নবীন ক্রিকেটারদের জন্য যেন এক নিখুঁত পাঠ্যপুস্তক। তবে ব্যক্তিগত শতকের ঠিক পরের ওভারেই তিনি ক্যাচ দিয়ে ফেরেন, কিন্তু ততক্ষণে বাংলাদেশকে নিয়ে যান শক্ত ভিত্তিতে।
মুশফিক আউট হওয়ার পরেই যেন ব্যাট হাতে ঝড় তুললেন লিটন দাস। তার ব্যাটিংয়ের স্বভাবসিদ্ধ সৌন্দর্য আবারও ফুটে উঠল এই ইনিংসে। শট নির্বাচন, ব্যাটের মিষ্টি টাইমিং আর আক্রমণাত্মক মনোভাব—সব মিলিয়ে লিটন দেখালেন কেন তাকে বাংলাদেশের সবচেয়ে স্টাইলিশ ব্যাটার বলা হয়।
লাঞ্চ বিরতির ঠিক আগ মুহূর্তে নিজের পঞ্চম টেস্ট সেঞ্চুরি তুলে নেন তিনি। দর্শকসারি দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানায় এই ব্যাটিং শিল্পীকে। লিটনের এমন ব্যাটিং দেখে স্পষ্ট বোঝা যায়, দলের সেরা স্কোর গড়তে তিনি পুরোপুরি প্রস্তুত।
তার সঙ্গে ক্রিজে তখন ছিলেন অলরাউন্ডার মেহেদী হাসান মিরাজ। অভিজ্ঞতার পরিচয়ে তিনি শুরু থেকেই শান্ত খেলছিলেন। বিপদ এড়ানো, সিঙ্গেল-ডাবল নেওয়ার বুদ্ধিমত্তা আর লিটনকে স্ট্রাইক ফিরিয়ে দেওয়ার কৌশল—সবকিছু মিলিয়ে তাদের জুটি আরও বড় সংগ্রহের সম্ভাবনা তৈরি করে।
প্রথম সেশন শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায়—
৫ উইকেটে ৩৮৭ রান
স্বাগতিকরা সেশনে হারিয়েছে কেবল একটি উইকেট—মুশফিকুর রহিমকে। এমন দাপুটে সেশন বাংলাদেশের টেস্ট ইতিহাসে খুব বেশি দেখা যায় না। বোলারদের চাপ তৈরি করার জায়গা দেয়নি লিটন-মিরাজ জুটি। আর আগের দিন থেকে জমে থাকা পার্টনারশিপকে শতকে রূপ দেন মুশফিক।
এই অবস্থায় বাংলাদেশ দল আরও বড় রানের পথে হাঁটতে পারে বলে আশা করা যায়। যদি মধ্য-পর্যায়ের ব্যাটাররা লিটন-মিরাজের ছন্দ ধরে রাখতে পারে, তাহলে ৪৫০ এমনকি ৫০০ রান ছুঁয়ে ফেলাও অসম্ভব নয়।
দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশন তাই স্মরণীয় হয়ে রইল—
একদিকে শততম টেস্টে মুশফিকের ইতিহাস গড়া সেঞ্চুরি,
অন্যদিকে লিটন দাসের ক্লাসিকাল ব্যাটিংয়ে শতকের বিস্ফোরণ।
লাঞ্চে যাওয়ার সময় ড্রেসিং রুমে একটাই অনুভূতি—
বাংলাদেশ ম্যাচে প্রভাব বিস্তার করে ফেলেছে।
খবরওয়ালা/এসজে
মন্তব্য