বিশ্ব ফুটবলে নিজের শ্রেষ্ঠত্ব প্রতিষ্ঠা করেছেন লিওনেল মেসি। বিশ্বকাপ থেকে কোপা আমেরিকা, ক্লাব ফুটবলের অসংখ্য শিরোপা থেকে ব্যক্তিগত স্বীকৃতি—বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে প্রায় সব বড় অর্জনই ধরা দিয়েছে আর্জেন্টাইন মহাতারকার হাতে। এবার তাঁর নজর ভবিষ্যতের দিকে। আগামী দিনে বিশ্ব ফুটবলে আলো ছড়াতে পারেন, এমন ১০ তরুণ ফুটবলারকে বেছে নিয়েছেন আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই তারকা।
সোমবার (১২ অক্টোবর) গোল ডটকমের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। ক্রীড়াসামগ্রী প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাডিডাসের ‘মেসি +১০’ প্রচারণার তৃতীয় মৌসুমে এই ১০ ফুটবলারকে তুলে ধরা হয়েছে। নতুন প্রজন্মের প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের পরিচিতি বাড়ানো এবং তাঁদের সম্ভাবনার প্রতি ফুটবলপ্রেমীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
মেসির নির্বাচিত তালিকায় রয়েছেন আর্জেন্টিনার ক্লাব বোকা জুনিয়র্সের তরুণ প্লেমেকার তোমাস আরান্দা। কারিগরি দক্ষতা, বল নিয়ন্ত্রণ এবং সৃজনশীল খেলার জন্য নজর কেড়েছেন এই ফুটবলার। তাঁর প্রতিভা আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের কোচ লিওনেল স্কালোনিরও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। বিশ্বকাপের আগে প্রীতি ম্যাচের সফরের জন্য ঘোষিত দলেও জায়গা পেয়েছিলেন তিনি।
তবে বর্তমানে চোটের কারণে মাঠের বাইরে রয়েছেন আরান্দা। ডান পায়ের ফিবুলার হাড় ভেঙে যাওয়ায় পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন এই তরুণ। মাঠে ফেরার অপেক্ষায় থাকা অবস্থায় মেসির নির্বাচিত তালিকায় জায়গা পাওয়া তাঁর জন্য বাড়তি অনুপ্রেরণা হতে পারে। তবে এই স্বীকৃতিকে ভবিষ্যৎ সাফল্যের নিশ্চয়তা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। চোট কাটিয়ে ফেরা, নিয়মিত পারফরম্যান্স এবং নিজের সামর্থ্যের ধারাবাহিক প্রমাণ দেওয়াই হবে তাঁর সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।
তালিকায় শুধু আর্জেন্টিনার খেলোয়াড় নন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সম্ভাবনাময় ফুটবলাররাও রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য তুরস্কের জান উজুন, যিনি জার্মান ক্লাব আইনট্রাখট ফ্রাঙ্কফুর্টের হয়ে খেলেন। এ ছাড়া আছেন মেক্সিকোর ক্লাব তিহুয়ানার গিলবার্তো মোরা এবং ইংল্যান্ডের আর্সেনালের তরুণ ফুটবলার ম্যাক্স ডাউম্যান।
গিলবার্তো মোরাকে ঘিরে ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবগুলোর আগ্রহের কথাও সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে। সম্ভাব্য আগ্রহী দলগুলোর মধ্যে রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনার নাম রয়েছে। তবে বড় ক্লাবের আগ্রহের খবর মানেই যে দলবদল নিশ্চিত, তা নয়। তরুণ এই ফুটবলারের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ভর করবে তাঁর পারফরম্যান্স ও সংশ্লিষ্ট ক্লাবগুলোর সিদ্ধান্তের ওপর।
মেসির পছন্দের তালিকায় রয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের জেভিয়ার গোজো, স্পেনের হেসুস রদ্রিগেজ এবং নেদারল্যান্ডসের কেস স্মিটও। তাঁরা নিজ নিজ দেশের ফুটবলে নতুন প্রজন্মের প্রতিনিধিত্ব করছেন। বিভিন্ন দেশের খেলোয়াড়দের একই তালিকায় রাখার মধ্য দিয়ে ফুটবলের আন্তর্জাতিক পরিসরে তরুণ প্রতিভাদের বৈচিত্র্যও উঠে এসেছে।
এই উদ্যোগের আরেকটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো নারী ফুটবলের উদীয়মান খেলোয়াড়দের অন্তর্ভুক্তি। ইংল্যান্ডের ক্লোয়ি সারউই, ব্রাজিলের জিওভান্না ওয়াকসম্যান এবং জার্মানির লোটা ভ্রেডে জায়গা পেয়েছেন মেসির নির্বাচিত ১০ জনের মধ্যে। এর মাধ্যমে পুরুষ ফুটবলের পাশাপাশি নারী ফুটবলেও নতুন প্রতিভাদের পরিচিত করে তোলার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।
মেসির নির্বাচিত ১০ তরুণ ফুটবলার
১. তোমাস আরান্দা — আর্জেন্টিনা, বোকা জুনিয়র্স
২. জান উজুন — তুরস্ক, আইনট্রাখট ফ্রাঙ্কফুর্ট
৩. গিলবার্তো মোরা — মেক্সিকো, তিহুয়ানা
৪. ম্যাক্স ডাউম্যান — ইংল্যান্ড, আর্সেনাল
৫. জেভিয়ার গোজো — যুক্তরাষ্ট্র, ক্রিস্টাল প্যালেস
৬. হেসুস রদ্রিগেজ — স্পেন, কোমো ১৯০৭
৭. কেস স্মিট — নেদারল্যান্ডস, এজেড আলকমার
৮. ক্লোয়ি সারউই — ইংল্যান্ড, চেলসি
৯. জিওভান্না ওয়াকসম্যান — ব্রাজিল, ওএল লিওন
১০. লোটা ভ্রেডে — জার্মানি, হামবুর্গার এসভি
মেসির মতো বিশ্বখ্যাত একজন ফুটবলারের নির্বাচিত তালিকায় জায়গা পাওয়া তরুণদের জন্য নিঃসন্দেহে সম্মানের। তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও ফুটবল সম্পর্কে গভীর ধারণার কারণে এই নির্বাচন সমর্থকদের মধ্যেও কৌতূহল তৈরি করতে পারে। তবে তালিকাটি মূলত সম্ভাবনাময় খেলোয়াড়দের সামনে তুলে ধরার একটি উদ্যোগ; এখান থেকে কারা ভবিষ্যতে বিশ্ব ফুটবলের শীর্ষ তারকা হয়ে উঠবেন, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।
ফুটবলে প্রতিভার পাশাপাশি প্রয়োজন কঠোর পরিশ্রম, নিয়মিত ভালো পারফরম্যান্স, শারীরিক সক্ষমতা এবং প্রতিকূলতা কাটিয়ে ওঠার মানসিকতা। বয়সভিত্তিক পর্যায়ে নজর কাড়া অনেক খেলোয়াড়ই পরবর্তী সময়ে ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারেন না। আবার কেউ কেউ সময়ের সঙ্গে নিজেদের উন্নত করে বিশ্ব ফুটবলের গুরুত্বপূর্ণ মুখ হয়ে ওঠেন।
মেসির বেছে নেওয়া এই ১০ ফুটবলারের সামনে তাই নিজেদের প্রমাণ করার দীর্ঘ পথ রয়েছে। তাঁদের মধ্যে কে ভবিষ্যতে বিশ্ব ফুটবলে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলবেন, সেটি নির্ধারণ করবে সময়, পারফরম্যান্স এবং ক্যারিয়ারের ধারাবাহিক অগ্রগতি। আপাতত এই তালিকা নতুন প্রজন্মের ফুটবল প্রতিভাদের নিয়ে আলোচনায় বাড়তি মাত্রা যোগ করেছে।


