মেসির বিদায়ে আবেগঘন রাত, কাঁদল আর্জেন্টিনা

আর্জেন্টিনার জার্সিতে লিওনেল মেসির শেষ দিনটি হয়ে থাকল আবেগ, গর্ব ও বেদনার এক অনন্য মিশেল। দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে অসংখ্য স্মৃতি উপহার দেওয়া এই কিংবদন্তি জানালেন, জাতীয় দলের হয়ে শেষবার মাঠে নামার অনুভূতি তাঁর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে দুঃখের মুহূর্তগুলোর একটি।

বেনিনের বিপক্ষে ৩-০ গোলের জয়ের পর বিদায়ী বক্তব্যে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন মেসি। ম্যাচটিতেও ছিল তাঁর ছাপ। একটি গোল করার পাশাপাশি দুটি গোলে সহায়তা করেন আর্জেন্টাইন প্লেমেকার। তবে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের আনন্দ ছাপিয়ে যায় বিদায়ের অনুভূতি। মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে উপস্থিত ৮৫ হাজারের বেশি দর্শকের সামনে দাঁড়িয়ে নিজের দীর্ঘ পথচলার স্মৃতি তুলে ধরেন তিনি।

মেসি বলেন, বিশ্বকাপ জয়ের পর আর্জেন্টিনার হয়ে প্রথম ম্যাচে মাঠে নামার রাতটি তিনি কখনো ভুলবেন না। সেই ম্যাচগুলোর ভিডিও এখনো দেখেন এবং প্রতিবারই আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তাঁর কাছে জাতীয় দলের হয়ে খেলা ছিল শুধু একটি পেশাগত দায়িত্ব নয়; এটি ছিল নিজের দেশ, সমর্থক ও শৈশবের স্বপ্নের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে থাকা এক অধ্যায়।

আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির যাত্রা অবশ্য সবসময় মসৃণ ছিল না। ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে জাতীয় দলের হয়ে বড় সাফল্য না পাওয়ায় তাঁকে কঠোর সমালোচনার মুখেও পড়তে হয়েছিল। একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ফাইনালে হতাশ হওয়ার পর অবশেষে ২০২১ সালে কোপা আমেরিকা জয়ের মাধ্যমে আর্জেন্টিনার হয়ে প্রথম বড় আন্তর্জাতিক ট্রফি পান তিনি।

এরপর আসে আরও বড় সাফল্য। ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে চ্যাম্পিয়ন করে নিজের ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত স্বপ্ন পূরণ করেন মেসি। সেই বিশ্বকাপ জয়ের পর তাঁর আন্তর্জাতিক উত্তরাধিকারও নতুন মাত্রা পায়। দীর্ঘ অপেক্ষা, ব্যর্থতা ও সমালোচনার পর দেশের হয়ে সবচেয়ে বড় ট্রফি জিতে সমর্থকদের ভালোবাসার জবাব দেন তিনি মাঠেই।

তবু বিদায়ের মুহূর্তে সেই সাফল্যগুলোও যেন বেদনা কমাতে পারেনি। মেসি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, আর্জেন্টিনার হয়ে আর খেলতে না পারার বিষয়টি তাঁকে পোড়াবে।

ভবিষ্যতে যারা জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্ব করবেন, তাদের প্রতিও নিজের পূর্ণ সমর্থনের কথা জানিয়েছেন আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই তারকা। তাঁর বিশ্বাস, আর্জেন্টিনা যখন ঐক্যবদ্ধ থাকে, তখন দলটি আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে। জাতীয় দলের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের পাশে থাকার প্রত্যয়ও ব্যক্ত করেছেন তিনি।

বিদায়ী বক্তব্যে নিজের আবেগও গোপন করেননি মেসি। তিনি বলেন, এই জায়গা ছেড়ে যেতে চান না, এমনকি ফুটবল মাঠ থেকেও দূরে যেতে চান না। সমর্থকদের ভালোবাসার কথা স্মরণ করে জানান, তাদের তিনি খুব মিস করবেন।

আর্জেন্টিনার নাগরিক হিসেবে নিজের গর্বের কথাও তুলে ধরেন মেসি। একই সঙ্গে শৈশবের স্বপ্ন পূরণ করে দেশের হয়ে খেলতে পারাকে জীবনের অন্যতম বড় অর্জন হিসেবে দেখেন তিনি।

মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার তাই কেবল গোল, অ্যাসিস্ট কিংবা ট্রফির পরিসংখ্যান দিয়ে বিচার করার মতো নয়। এটি ব্যর্থতার পর ঘুরে দাঁড়ানোর, সমালোচনা পেরিয়ে সাফল্যের শিখরে ওঠার এবং একটি দেশের কোটি মানুষের আবেগের সঙ্গে নিজেকে একাকার করে নেওয়ার গল্প।

বেনিনের বিপক্ষে জয় দিয়ে শেষ হওয়া এই অধ্যায়েও তাই ছিল মেসির স্বাভাবিক ছাপ—গোল, অ্যাসিস্ট, জয় এবং শেষ পর্যন্ত অশ্রুসিক্ত বিদায়। আর্জেন্টিনার জার্সিতে তাঁর সময় শেষ হলেও, দেশের ফুটবল ইতিহাসে মেসির রেখে যাওয়া অধ্যায়টি যে দীর্ঘদিন আলোচিত হবে, তা নিয়ে সংশয়ের খুব কমই আছে।

Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

সম্পাদক ও প্রকাশক : এ বি এম জাকিরুল হক টিটন ।

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।