ইপ্সউইচ টাউনের বিরুদ্ধে ৪-২ ব্যবধানে আর্সেনালের চোখধাঁধানো জয়ের রাতে ফুটবলাঙ্গনের পুরো আলো নিজের দিকে কেড়ে নিয়েছেন এক ১৫ বছরের তরুণ। তিনি আর কেউ নন, উত্তর লন্ডনের ক্লাবটির একাডেমি থেকে উঠে আসা প্রতিভাবান মিডফিল্ডার ম্যাক্স ডাউম্যান। প্রতিপক্ষের সুসংগঠিত রক্ষণভাগকে একের পর এক বিষণ্ন ড্রিবলিংয়ে ছত্রভঙ্গ করে দিয়ে তিনি যেন নতুন করে প্রমাণ করলেন, গানারদের প্রধান কোচ মিকেল আর্তেতা তাকে নিয়ে কেন অতটা উচ্চাশা প্রকাশ করেছিলেন। ডাউম্যানের এমন চোখধাঁধানো পারফরম্যান্স দেখার পর বিশ্বজুড়ে ফুটবলপ্রেমী ও বিশ্লেষকেরা এখন আবার আলোচনায় আনছেন সেই পুরোনো প্রসঙ্গ।
কিছুদিন আগে আর্সেনাল ম্যানেজার মিকেল আর্তেতা এই তরুণের অবিশ্বাস্য ফুটবল প্রতিভার প্রশংসা করতে গিয়ে সর্বকালের অন্যতম সেরা ফুটবলার লিওনেল মেসির উদাহরণ টেনেছিলেন। আর্তেতা অকপটে বলেছিলেন, মাত্র ১৫ বছর বয়সে মাঠে ডাউম্যানের যে অপরিসীম পরিপক্বতা, ক্ষিপ্রতা এবং কৌশল তিনি প্রত্যক্ষ করেছেন, তা নিজের দীর্ঘ ফুটবল ও কোচিং ক্যারিয়ারে খুব কম খেলোয়াড়ের মধ্যেই পরিলক্ষিত হয়েছে।
ইপ্সউইচের বিরুদ্ধে ম্যাচে বলের ওপর নিখুঁত নিয়ন্ত্রণ, অবিশ্বাস্য গতি এবং প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের চোখের পলকে ফাঁকি দিয়ে গোলের সুযোগ তৈরি করে আর্তেতার সেই মূল্যায়নের প্রতিটি অক্ষরের সত্যতা প্রমাণ করেছেন ডাউম্যান। বাঁ পায়ে বলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে বিপজ্জনকভাবে ঢুকে পড়া এবং চাপের মুখে শান্ত মাথায় বুদ্ধিদীপ্ত পাস বাড়ানোর যে সহজাত ক্ষমতা এই তরুণের খেলায় দেখা যায়, অনেক ফুটবল বিশ্লেষকই তার মধ্যে বার্সেলোনার সেই শুরুর দিনগুলোর তরুণ লিওনেল মেসির স্পষ্ট ছায়া দেখতে পাচ্ছেন।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘দ্য সান’-এর একটি বিশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়, ইপ্সউইচের বিরুদ্ধে ডাউম্যানের এই প্রভাব বিস্তারকারী পারফরম্যান্স কোনো অলৌকিক বা আকস্মিক ঘটনা নয়। বরং এটি আর্সেনালের বিখ্যাত হেল অ্যান্ড একাডেমি থেকে নিয়মিত ও নিবিড় পরিচর্যার মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা এক বিরল প্রতিভার বহির্প্রকাশ। ম্যাচের তীব্র গতি ও কঠিন পরিস্থিতির মাঝে তার দ্রুত সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতা এবং অসাধারণ গেম রিডিং দেখে বোঝারই উপায় থাকে না যে তার বয়স এখনও ষোলোর কোঠা ছোঁয়নি।
আর্সেনাল সমর্থক থেকে শুরু করে প্রথমার্ধের খেলা পর্যবেক্ষণ করা সিনিয়র ফুটবল বোদ্ধাদের অনেকেই প্রাথমিক অবস্থায় আর্তেতার করা সেই মেসি-তুলনাকে কিছুটা বাড়াবাড়ি বলেই মনে করেছিলেন। কিন্তু এই ম্যাচের পর সবাই একবাক্যে স্বীকার করতে বাধ্য হচ্ছেন যে, গানারদের ড্রেসিংরুম ও অ্যাকাডেমিতে হয়তো আগামী দিনের বিশ্ব ফুটবলের এক নতুন মহাতারকা স্বমহিমায় তৈরি হচ্ছে। এভাবে ধারাবাহিকতা ধরে রেখে মূল দলের নিয়মিত স্কোয়াডে সুযোগ পেতে থাকলে খুব দ্রুতই যে এই ইংলিশ তরুণ আন্তর্জাতিক ফুটবলের শীর্ষ স্তরে নিজের শক্ত অবস্থান তৈরি করে নেবেন, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।


