খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১ই জুলাই ২০২৫, ৪:১১ পিএম
যশোর শহরের সার্কিট হাউজপাড়ায় নির্মাণাধীন একটি বহুতল ভবনের পঞ্চম তলার ব্যালকনি ভেঙে পড়ে দুই প্রকৌশলীসহ তিনজন নিহত হয়েছেন। মঙ্গলবার (১ জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে ‘বিল্ডিং ফর ফিউচার লিমিটেড’ কোম্পানির নির্মাণাধীন ভবন ইকবাল মঞ্জিলে এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন—প্রজেক্ট ইঞ্জিনিয়ার মিজানুর রহমান (৩৫), সাইট ইঞ্জিনিয়ার আজিজুর রহমান (৩৫) এবং সাব-কন্ট্রাক্টর কাম মিস্ত্রি নুরু মিয়া (৪৫)। তারা তিনজনই ভবনের পঞ্চম তলার ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে কাজের আলোচনা করছিলেন। হঠাৎ করেই ব্যালকনিটি ধসে নিচে পড়ে গেলে ঘটনাস্থলে গুরুতর আহত হন তারা। স্থানীয়রা উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা তিনজনকেই মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা তমাল আহমেদ বলেন, হঠাৎ বিকট শব্দ শুনে বাসা থেকে বের হয়ে আসি। এসে দেখি তিনজন লোক রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। এরপর তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠাই। শুনেছি তারা তিনজনই মারা গেছেন। মূলত নির্মাণ কাজের জন্য যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকা দরকার সেটা না থাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটেছে।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সদ্য পদত্যাগকারী আহ্বায়ক রাশেদ খান। তিনি বলেন, নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। ভেঙে পড়া ব্যালকনিতে খুবই চিকন রড ব্যবহার করা হয়েছে। ছাদের রডের সঙ্গে ব্যালকনির রডের সংযোগও ছিল না। এটি একটি হত্যাকাণ্ড।
দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থলে কনস্ট্রাকশন কোম্পানি বিল্ডিং ফর ফিউচারের কোনও প্রতিনিধিকে পাওয়া যায়নি।
যশোর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম শরীফ হাসান বলেন, আমরা দুর্ঘটনার খবর শুনে একটি প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছি। নির্মাণসংক্রান্ত বিষয়ে কোনও ত্রুটি পেলে ভবন মালিকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে যশোর কোতোয়ালি থানার ওসি আবুল হাসনাত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি জানান, নিহতদের ময়নাতদন্ত করা হবে এবং এ ঘটনায় নিহতদের পরিবার থেকে অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যমতে, নিহত ইঞ্জিনিয়ার মিজানুর রহমান দিনাজপুর, ইঞ্জিনিয়ার আজিজুর রহমান কুষ্টিয়া এবং সাব কন্ট্রাক্টর কাম মিস্ত্রি নুরু মিয়া চাঁপাইনবাবগঞ্জের বাসিন্দা। তারা ৫ বছরের অধিক সময় ধরে এ ভবন নির্মাণের কাজ করছেন।
খবরওয়ালা/এন
মন্তব্য