খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
যশোর শহরের বেজপাড়া এলাকায় শাশুড়িকে কুপিয়ে হত্যার পর মরদেহ বস্তায় ভরে লুকানোর চেষ্টার অভিযোগে পুত্রবধূ মরিয়ম খাতুনকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার মধ্যরাতে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। নিহত নারীর নাম সকিনা বেগম, তিনি শহরের বেজপাড়া এলাকার লাল চাঁদ খলিফার স্ত্রী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, সকিনা বেগমের পুত্রবধূ মরিয়ম খাতুন ধারালো দা দিয়ে শাশুড়িকে আঘাত করলে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান। হত্যার পর মরদেহ গোপন করার উদ্দেশ্যে বস্তায় ভরে বসতবাড়ির সামনে লুকিয়ে রাখা হয় বলে জানা গেছে।
ঘটনার দিন সকালে নিহতের ছেলে শহিদুল ইসলাম কর্মস্থলে যাওয়ার আগে বাসায় খাবার প্রস্তুত না থাকায় বাইরে থেকে খাবার গ্রহণের কথা জানান। পরে তিনি মায়ের খোঁজ করলে তাকে বলা হয় সকিনা বেগম বাইরে গেছেন। রাতের দিকে বাসায় ফিরে পুনরায় মায়ের খোঁজ করলে একই তথ্য দেওয়া হয়। এতে সন্দেহ হলে তিনি থানায় বিষয়টি অবহিত করেন।
পরবর্তীতে রাত সাড়ে ১২টার দিকে বাড়ির সামনে একটি বস্তার মধ্যে মরদেহ দেখতে পান শহিদুল ইসলাম ও তার বোন শাহিদা বেগম। তারা মরদেহ শনাক্ত করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে এবং আলামত সংগ্রহ করে। একই সঙ্গে রক্তমাখা ধারালো অস্ত্রসহ মরিয়ম খাতুনকে আটক করা হয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবুল বাশার জানিয়েছেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মরিয়ম খাতুন হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে। ঘটনাটি নিয়ে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং বিস্তারিত তদন্ত চলছে। মরদেহ যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
| সময়/ধাপ | ঘটনা |
|---|---|
| সকাল | শহিদুল ইসলাম কর্মস্থলে যান, বাসায় খাবার প্রস্তুত ছিল না |
| দিনের বেলা | পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয় সকিনা বেগম বাইরে আছেন |
| রাত ১০টা | শহিদুল বাসায় ফিরে মায়ের খোঁজ নেন, আবারও একই উত্তর পান |
| রাত ১১টার পর | সন্দেহ হলে থানায় তথ্য দেন |
| রাত সাড়ে ১২টা | বাড়ির সামনে বস্তায় মরদেহ উদ্ধার |
| পরবর্তী সময় | মরিয়ম খাতুন আটক ও আলামত জব্দ |
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ, পূর্ববর্তী পারিবারিক বিরোধ এবং হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো বিষয় রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। স্থানীয়ভাবে ঘটনাটি নিয়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং পুরো এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।