যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্কসংক্রান্ত করা ‘গোপন চুক্তির’ বিস্তারিত অবিলম্বে প্রকাশের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি)।
দলটি বলেছে, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে জনগণকে অন্ধকারে রাখা গণতন্ত্র ও সংবিধান পরিপন্থী।
শনিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে এ দাবি জানান সিপিবির সভাপতি মোহাম্মদ শাহ আলম ও সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স।
বিবৃতিতে বলা হয়, “এই চুক্তি নিয়ে দেশে এখন ব্যাপক উদ্বেগ, সংশয় ও আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। সরকার এই উদ্বেগ উপেক্ষা করতে পারে না। বিশেষ করে যখন ‘নন-ডিসক্লোজার এগ্রিমেন্টের’ আওতায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন রাখা হয়, তখন জনমনে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়।”
সিপিবির শীর্ষ নেতারা বলেন, “দেশের জনগণ জানতে চায়—এই চুক্তিতে ঠিক কোন কোন বিষয়ে কতটা ছাড় দেওয়া হয়েছে, কী ধরনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে এবং এর বিনিময়ে বাংলাদেশের কী লাভ বা ক্ষতি হচ্ছে।”
বিবৃতিতে দাবি করা হয়, বিভিন্ন সূত্রে জানা যাচ্ছে—এই তথাকথিত ‘ছাড়ের’ বিপরীতে বাংলাদেশকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বেশি দামে গম ও এলএনজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) কিনতে হতে পারে। এছাড়াও ২৫টি বোয়িং বিমান কেনার বাধ্যবাধকতা এবং ১১০টি মার্কিন পণ্যকে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার দেওয়ার বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে।
চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের গভীর সমুদ্রের খনিজ সম্পদের ওপর মার্কিন নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার আশঙ্কাও প্রকাশ করেছে দলটি।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “জনগণ ও জাতীয় সংসদে আলোচনা ছাড়া এ ধরনের ‘গোপন চুক্তি’ করার কোনো নৈতিক বা সাংবিধানিক অধিকার অন্তর্বর্তী সরকারের নেই।”
সিপিবি নেতারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, রাষ্ট্রীয় স্বার্থে অবিলম্বে চুক্তির সবকিছু জনসমক্ষে প্রকাশ করে জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনার জন্য।
খবরওয়ালা/আশ



