রাঙামাটিতে আট বছর বয়সী এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের মামলায় আইয়ুব আলী সওদাগর নামে এক ব্যক্তিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে তাকে আরও ছয় মাস কারাভোগ করতে হবে।
রাঙামাটির শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের এটিই প্রথম রায় বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। সোমবার (২৪ আগস্ট) ট্রাইব্যুনালের বিচারক নিশাত সুলতানা এ রায় ঘোষণা করেন। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিষয়টি নিশ্চিত করেন সরকারি কৌঁসুলি মাকসুদা হক।
মামলার নথি ও আদালতসংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালের ১৪ জানুয়ারি রাঙামাটির কাউখালী উপজেলার কাশখালী বঙ্গটিলা এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। ভুক্তভোগী শিশুটি তখন স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল।
অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার দিন বাড়ির পাশ দিয়ে হেঁটে যাওয়ার সময় শিশুটিকে একা পেয়ে আইয়ুব আলী তাকে পাশের একটি ধানখেতে নিয়ে যান। সেখানে তাকে ধর্ষণ করা হয়। পরে শিশুটি ছেঁড়া পোশাক ও রক্তাক্ত অবস্থায় বাড়িতে ফিরে পরিবারের সদস্যদের কাছে ঘটনার কথা জানায়। এরপর তার বাবা-মা কাউখালী থানায় মামলা করেন।
মামলা দায়েরের পর আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তদন্ত শুরু করে। দীর্ঘ তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালতে আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হয়। সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে ট্রাইব্যুনাল তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। পাশাপাশি আর্থিক জরিমানার আদেশও দেওয়া হয়।
সরকারি কৌঁসুলি মাকসুদা হক বলেন, শিশুটিকে ধর্ষণের অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হওয়ায় আসামিকে সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
দীর্ঘ সময় পর মামলাটির রায় হওয়ায় ভুক্তভোগীর পরিবার বিচার পাওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ অতিক্রম করেছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। একই সঙ্গে রাঙামাটির শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের প্রথম রায় হিসেবে মামলাটি স্থানীয়ভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
শিশুদের ওপর যৌন সহিংসতার ঘটনা প্রতিরোধে পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্থানীয় প্রশাসনের সতর্কতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও বিভিন্ন সময়ে বিশেষজ্ঞরা তুলে ধরেছেন। কোনো শিশু এমন ঘটনার শিকার হলে দ্রুত চিকিৎসা, আইনগত সহায়তা এবং নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। তবে এই মামলায় আদালতের রায় মূলত উপস্থাপিত সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতেই দেওয়া হয়েছে।


