রাজধানীর শনির আখড়া ও দারুস সালাম এলাকায় পৃথক দুটি গুলির ঘটনায় এক ব্যবসায়ী ও এক নারী আহত হয়েছেন। শনিবার রাতে অল্প সময়ের ব্যবধানে ঘটে যাওয়া দুই ঘটনায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে স্থানীয়দের মধ্যে। একটি ঘটনায় দোকানের ভেতরে ঢুকে এক ব্যবসায়ীকে লক্ষ্য করে গুলি করা হয়। অন্য ঘটনায় বাসার খোলা জানালা দিয়ে ছোড়া গুলি লাগে টেলিভিশন দেখার সময় থাকা এক নারীর হাতে।
পুলিশ ও স্বজনদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শনিবার রাত ৮টার দিকে শনির আখড়ার জিয়া স্মরণী রোড এলাকায় ব্যবসায়ী আসলাম খান গুলিবিদ্ধ হন। ওই এলাকায় তাঁর কোকারিজের ব্যবসা রয়েছে। ঘটনার সময় তিনি দোকানের ভেতরে বসে একজন ক্রেতার সঙ্গে কথা বলছিলেন। তখন হঠাৎ এক ব্যক্তি দোকানে প্রবেশ করে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। গুলি করার পর হামলাকারী দ্রুত ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আসলাম খানকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনার পর বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানাকে জানানো হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় মামলা করার প্রস্তুতি চলছে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মোহাম্মাদ ফারুক জানান, কদমতলী এলাকা থেকে গুলিতে আহত এক ব্যবসায়ী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বিষয়টি কদমতলী থানা অবগত রয়েছে।
অন্যদিকে, একই রাতে রাজধানীর দারুস সালাম এলাকায় বাসার ভেতরে থাকা অবস্থায় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন জেসমিন আক্তার নামে এক নারী। শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে মাতবরবাড়ি মসজিদ গলি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
আহত নারীর ছেলে ইয়াসিন জানান, তাঁর মা বাসার জানালা খোলা রেখে টেলিভিশন দেখছিলেন। এ সময় অজ্ঞাত কয়েকজন দুর্বৃত্ত খোলা জানালা দিয়ে গুলি ছুড়ে দ্রুত সেখান থেকে চলে যায়। গুলিটি জেসমিনের ডান হাতে লাগে। গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি গুরুতর আহত অবস্থায় মাটিতে পড়ে যান।
পরিবারের সদস্যরা পরে তাঁকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করেন। রাত পৌনে ১১টার দিকে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। পরে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতালের পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মোহাম্মাদ ফারুক জেসমিনের গুলিবিদ্ধ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পরিবারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জেসমিন বেগমের গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর থানার উত্তর দাললা গ্রামে। তাঁর স্বামীর নাম আব্দুল মান্নান।
রাজধানীর একই রাতে পৃথক দুটি এলাকায় গুলির ঘটনায় দুইজন আহত হওয়ার বিষয়টি স্থানীয় নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তবে দুই ঘটনায় কারা গুলি চালিয়েছে, তাদের উদ্দেশ্য কী ছিল এবং হামলার সঙ্গে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ কোনো তথ্য জানায়নি। ঘটনাগুলো খতিয়ে দেখে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।


