রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলায় আর্থিক লেনদেন ও পূর্ববিরোধের জেরে ছুরিকাঘাতে শরিফুল ইসলাম হীরা নামের এক যুবলীগ নেতা নিহত হয়েছেন। শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল সোয়া ৯টার দিকে উপজেলার রেলওয়ে স্টেশন এলাকার তোরাই মোড় নামক স্থানে এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার পর পুরো এলাকায় চাঞ্চল্য ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহত ৪০ বছর বয়সী শরিফুল ইসলাম গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামের জাবেদ ভূঁইয়ার সন্তান। তবে তিনি দীর্ঘদিন ধরে গোয়ালন্দ পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডে তার শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করে আসছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি গোয়ালন্দ পৌর যুবলীগের প্রচার সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করতেন এবং জীবিকার তাগিদে স্থানীয় ইজিবাইক স্ট্যান্ডে লাইনম্যানের কাজ করতেন।
নিহতের পরিবার ও পুলিশ প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, শরিফুল ইসলামের সঙ্গে কামরুল নামের স্থানীয় এক ব্যক্তির দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের সম্পর্ক ছিল। অভিযুক্ত কামরুল গোয়ালন্দ পৌরসভার কুমড়াকান্দি গ্রামের বাসিন্দা। সম্প্রতি তাদের দুইজনের মধ্যে বিভিন্ন মাধ্যম ও পাওনা টাকা-পয়সার লেনদেন নিয়ে তীব্র বিরোধ তৈরি হয়েছিল।
ঘটনার দিন সকালে শরিফুল গোয়ালন্দ বাজারে বিভিন্ন প্রয়োজনীয় কেনাকাটা শেষ করে নিজের বাড়িতে ফিরছিলেন। তিনি যখন পথিমধ্যে তোরাই মোড় এলাকায় পৌঁছান, ঠিক তখনই ওত পেতে থাকা কামরুল তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। বখাটে কামরুল তার হাতে থাকা ধারালো ছুরি দিয়ে শরিফুলের শরীরে উপর্যুপরি আঘাত করে পালিয়ে যায়। এতে শরিফুল গুরুতর জখম হয়ে রাস্তায় লুটিয়ে পড়েন। তার চিৎপুরে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাকে দ্রুত উদ্ধার করেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে পৌঁছানোর পর জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
হত্যাকাণ্ডের এই খবর ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। খবর পেয়ে রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) শাহিদুল ইসলামসহ পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। তিনি গণমাধ্যমকে জানান, সকালের দিকে ছুরিকাঘাতে শরিফুল ইসলাম নামের ওই ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে যে মূলত আর্থিক লেনদেন সংক্রান্ত দ্বন্দ্বের কারণেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সরাসরি জড়িত অপরাধীকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশের একাধিক দল মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করেছে।
মন্তব্য