খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১ই আগস্ট ২০২৬, ৪:৫১ পিএম
রাজশাহীর মোহনপুরে মহাসড়কে মোটরসাইকেল নিয়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বাউলি খেলার সময় বালুবাহী ডাম্পার ট্রাকের চাপায় প্রাণ হারিয়েছেন দুই সহোদরসহ তিন তরুণ।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাত পৌনে ৯টার দিকে রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়কের কেশরহাট ডিগ্রি কলেজের প্রধান ফটকের সামনে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত তরুণেরা হলেন—মোহনপুর উপজেলার কেশরহাট পৌরসভার সাকোয়া গ্রামের রফিজ উদ্দিনের ছোট ছেলে কাইউম ইসলাম রাতুল (১৮), তাঁর বড় ভাই স্বাধীন ইসলাম (২২) এবং একই উপজেলার সিংহমারা গ্রামের শফিকুল ইসলামের ছেলে লিমন হোসেন (২২)।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা যায়, তিন যুবক একটি মোটরসাইকেলে চেপে রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়ক দিয়ে যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে কেশরহাট ডিগ্রি কলেজের সামনে পৌঁছালে তাঁরা মোটরসাইকেলটি আঁকাবাঁকা করে বাউলি কাটিয়ে বেপরোয়া গতিতে চালাতে থাকেন। ওই একই সময়ে নওগাঁর দিক থেকে রাজশাহীর অভিমুখে আসা একটি দ্রুতগামী বালুর ডাম্পার ট্রাক মোটরসাইকেলটিকে মারাত্মকভাবে চাপা দেয়।
ট্রাকের তীব্র ধাক্কায় মোটরসাইকেলটি দুমড়েমুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই কাইউম ইসলাম রাতুল ও তাঁর বন্ধু লিমন হোসেন মারা যান। মারাত্মকভাবে আহত অবস্থায় রাতুলের বড় ভাই স্বাধীন ইসলামকে উদ্ধার করে দ্রুত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নিয়ে যান স্থানীয়রা। তবে হাসপাতালে ভর্তি করার কিছুক্ষণের মধ্যেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনিও শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। দুর্ঘটনায় এক নিমেষেই এক পরিবারের দুই সন্তানের অকালমৃত্যুতে সাকোয়া গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
রাজশাহী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাবিনা ইয়াসমিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, তিন যুবক মোটরসাইকেল নিয়ে মহাসড়কে মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ ভঙ্গিতে বাউলি খেলছিলেন। নওগাঁ থেকে ছেড়ে আসা ঘাতক বালুর ট্রাকটি তাদের চাপা দিয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করে। চালক ও ডাম্পার ট্রাকটি শনাক্ত করে আটকের জন্য পুলিশের চেষ্টা চলছে।
ময়নাতদন্তের উদ্দেশ্যে তিনজনের মরদেহ রাজশাহী মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে শনিবার দুপুরে স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় মোহনপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আইনানুগ কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
মহাসড়কে অতিরিক্ত গতি, তরুণদের অনিয়ন্ত্রিত যান চালানো এবং হেলমেট ছাড়া মোটরসাইকেল রাইডিং ইদানীং মারাত্মক দুর্ঘটনার মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কগুলোতে ডাম্পার ট্রাকের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল এবং চালকদের বেপরোয়া গতি সাধারণ পথচারী ও দুই চাকার যানবাহনের জন্য চরম ঝুঁকি তৈরি করছে। প্রতিনিয়তই এমন অকালপ্রয়াণ পরিবারের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি বয়ে আনছে।
মন্তব্য