খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ১৪ই আগস্ট ২০২৬, ১১:৩৪ এএম
বহুল আলোচিত শিশু রামিসা ধর্ষণ ও নির্মম হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিল শুনানির প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করতে মামলাটি একটি বিশেষ বেঞ্চে পাঠিয়েছেন প্রধান বিচারপতি। সুপ্রিম কোর্টের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী এবং বিচারপতি কেএম রাশেদুজ্জামান রাজার সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত হাইকোর্ট বেঞ্চে এই চাঞ্চল্যকর মামলার আনুষ্ঠানিক বিচারকাজ পরিচালিত হবে। আগামী ১৬ আগস্ট, রোববার আদালতের কার্যসূচির ২২ নম্বর ক্রমিকে মামলাটি শুনানির জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।
বাংলাদেশের বিচারাঙ্গনে শিশু নিগ্রহ ও নারী নির্যাতনের ঘটনার দ্রুত নিষ্পত্তিতে এই শুনানিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল জানান, ফেনীর বহুল আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা এবং মাগুরার শিমু আছিয়া হত্যা মামলার শুনানি বর্তমানে শেষ পর্যায়ে রয়েছে। এগুলো শেষ হওয়ার পরপরই আদালত রামিসা হত্যা মামলার আনুষ্ঠানিক শুনানি সরাসরি শুরু করবেন। বিচার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে সরকার ও রাষ্ট্রপক্ষ থেকে সব ধরনের আইনি সহযোগিতা নিশ্চিত করা হচ্ছে।
নথিপত্র ও মামলার বিবরণ সূত্রে জানা যায়, ঢাকার শিশু অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের রায়ের পর নিয়ম অনুযায়ী আসামিদের মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে আসে। একই সাথে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরাও কারাগার থেকে জেল আপিল দায়ের করেন। শুনানির আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি হিসেবে এর আগেই বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি কেএম রাশেদুজ্জামান রাজার হাইকোর্ট বেঞ্চ আসামিদের জন্য স্টেট ডিফেন্স বা রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগ দিতে সলিসিটর দপ্তরকে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিলেন। নির্দেশের ধারাবাহিকতায় গত ২৫ জুন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী হাফিজুর রহমান খানকে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের পক্ষে আইনি লড়াই পরিচালনার জন্য রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, গত ১৯ মে কোমলমতি শিশু রামিসাকে ভয়াবহ পৈশাচিক কায়দায় ধর্ষণের পর নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। ঘটনাটির তীব্রতা এবং আলামত পর্যালোচনা করে অপরাধের সরাসরি প্রধান রূপকার সোহেল রানা ও তাকে অপরাধ সংঘটনে পূর্ণ সহায়তা করার অভিযোগে স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে অভিযুক্ত করা হয়। তদন্ত শেষে বিচারিক প্রক্রিয়ায় অভিযোগ প্রমাণিত হলে ঢাকার শিশু অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন অপরাধের ভয়াবহতা বিবেচনায় নিয়ে উভয় আসামিকে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের আদেশ প্রদান করেন। নিম্ন আদালতের এই কঠোর রায়ের পর থেকেই দুই আসামি কারাগারের কনডেম সেলে বন্দী রয়েছেন। উচ্চ আদালতে এই বিচারিক পর্যালোচনার মাধ্যমে মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি কোন দিকে যায়, তা দেখার জন্য এখন পুরো দেশবাসীর নজর হাইকোর্টের রোববারের কার্যতালিকায়।
মন্তব্য