ম্যাচে রোনালদোর গোল না পাওয়া এবং একাধিক সুযোগ হাতছাড়া করা আল নাসরের জন্য অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ালেও শেষ পর্যন্ত জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে দলটি। এই জয়ে লিগের শীর্ষ তিনে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখার লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি পেয়েছে সৌদি ক্লাবটি।
ম্যাচের শুরু থেকেই গোলের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যায় আল নাসর। দলের আক্রমণভাগে ছিলেন রোনালদো, যাঁর কাছ থেকে বরাবরের মতোই কার্যকর ফিনিশিংয়ের প্রত্যাশা ছিল সমর্থকদের। কিন্তু এদিন গোলের সামনে নিজের পরিচিত ছন্দ খুঁজে পাননি ৪১ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে, ম্যাচের ৪৭ মিনিটে, সতীর্থ সাদিও মানের কাছ থেকে দারুণ একটি বল পান রোনালদো। গোল করার জন্য অবস্থানটিও ছিল বেশ সুবিধাজনক। কিন্তু বাঁ পায়ের শটে নেওয়া তাঁর প্রচেষ্টা লক্ষ্যে রাখতে পারেননি। বলটি গোলপোস্টের ওপর দিয়ে চলে যায়। এমন সহজ সুযোগ নষ্ট হওয়ায় হতাশা বাড়ে আল নাসর সমর্থকদের।
দ্বিতীয়ার্ধে পরিস্থিতি বদলে দেওয়ার আরেকটি বড় সুযোগ এসেছিল রোনালদোর সামনে। পেনাল্টি থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ পান তিনি। কিন্তু এবারও ব্যর্থ হন পর্তুগিজ তারকা। তাঁর জোরালো শটটি গোলরক্ষক মার্সিন বুলকারের বাঁ পাশ দিয়ে পোস্টের বাইরে চলে যায়। ফলে পেনাল্টি থেকেও গোলের দেখা পাননি রোনালদো।
গোল করার একাধিক সুযোগ হাতছাড়া করায় ম্যাচজুড়েই আলোচনায় ছিলেন তিনি। বিশেষ করে গোলের সামনে তাঁর এমন ব্যর্থতা ছিল অপ্রত্যাশিত। ক্যারিয়ারে অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ গোল করা এবং ধারাবাহিকভাবে রেকর্ড গড়ার জন্য পরিচিত রোনালদোর কাছ থেকে সমর্থকদের প্রত্যাশা যে অনেক বেশি, সেটিও এই ম্যাচে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
তবে রোনালদো গোল করতে না পারলেও আল নাসরের আক্রমণ থেমে থাকেনি। দলের হয়ে ব্যবধান গড়ে দেন জোয়াও ফেলিক্স। পর্তুগিজ এই ফরোয়ার্ডের নিখুঁত ফিনিশিং থেকেই আসে ম্যাচের একমাত্র গোল। তাঁর সেই গোলই শেষ পর্যন্ত আল নাসরকে পূর্ণ তিন পয়েন্ট এনে দেয়।
ফেলিক্সের এই অবদান দলের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। কারণ, অধিনায়ক ও আক্রমণভাগের প্রধান তারকা যখন সুযোগ কাজে লাগাতে পারছিলেন না, তখন অন্য একজন খেলোয়াড়ের কার্যকর ভূমিকা জয় নিশ্চিত করতে সাহায্য করে। ফুটবলে ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের পাশাপাশি দলীয় সমন্বয় যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, ম্যাচটি তারও একটি উদাহরণ হয়ে থাকল।
অন্যদিকে, রোনালদোর সাম্প্রতিক সময়টা মাঠের পারফরম্যান্সের বাইরেও আলোচনায় রয়েছে। পর্তুগাল জাতীয় দলের কোচ জর্জ জেসুসের সঙ্গে কোচের ভূমিকা নিয়ে বিরোধের জেরে গত ৩০ সেপ্টেম্বর জাতীয় দলের ক্যাম্প ছেড়ে যাওয়ার ঘটনা সামনে আসে। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৯ অক্টোবর পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন তাঁকে ৩০ দিনের নিষেধাজ্ঞা এবং ২৫৫ ইউরো জরিমানা করে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
জাতীয় দল ঘিরে বিতর্কের মধ্যে ক্লাব ফুটবলেও গোলের সুযোগ কাজে লাগাতে না পারা রোনালদোর জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে। তবে একটি ম্যাচের ব্যর্থতা দিয়ে তাঁর দীর্ঘ ক্যারিয়ার কিংবা দলের প্রতি অবদান বিচার করা যায় না। সামনে ধারাবাহিকভাবে গোল করে নিজের ছন্দ ফিরে পাওয়াই হবে তাঁর অন্যতম লক্ষ্য।
আল নাসরের জন্য আপাতত সবচেয়ে বড় স্বস্তি হলো জয়। রোনালদোর পেনাল্টি মিস ও সহজ সুযোগ নষ্টের পরও ফেলিক্সের গোলে পূর্ণ পয়েন্ট অর্জন করেছে দলটি। শিরোপার লড়াইয়ে এগিয়ে থাকতে হলে এমন কঠিন ম্যাচেও জয় তুলে নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। আর এই ম্যাচে আল নাসর সেটিই করে দেখিয়েছে।


