দেশের নাট্যাঙ্গন ও চলচ্চিত্রে প্রেম-ভালোবাসার গল্পের আধিক্য নিয়ে আপত্তি তুলে সম্প্রতি আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী। তবে সেই নোটিশের রেশ কাটতে না কাটতেই তার নিজের ফেসবুক আইডি থেকে অতীতে শেয়ার করা কিছু সিনেমা দেখার পোস্ট সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
রোমান্টিক গল্পের নাটক ও সিনেমা নির্মাণ বন্ধের দাবিতে সরব হওয়া সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন নিজে কোন ধরনের সিনেমা দেখতে পছন্দ করেন, তা নিয়ে এখন চলছে নানা গুঞ্জন। তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট ঘেঁটে দেখা গেছে, রোমান্টিক কিংবা প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য নির্মিত বিভিন্ন সিনেমা দেখার কথা তিনি নিজেই অতীতে ফেসবুকে শেয়ার করেছিলেন।
আইনজীবী মাহমুদুল হাসান মামুনের ফেসবুক টাইমলাইন অনুযায়ী, গত বছরের ৫ আগস্ট ভারতীয় রোমান্টিক ড্রামা সিনেমা ‘রাধে শ্যাম’ দেখার কথা তিনি জানিয়েছিলেন। এর প্রায় তিন মাস আগে, অর্থাৎ একই বছরের ৯ মে হলিউডের ফ্যান্টাসি ঘরানার রোমান্টিক সিনেমা ‘স্টারডাস্ট’ দেখার বিষয়েও পোস্ট করেছিলেন তিনি। শুধু রোমান্টিক বা প্রেমের সিনেমা নয়, ২০১২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য পরিচিত ‘আর-রেটেড’ কমেডি সিনেমা ‘দ্য ডিক্টেটর’ দেখার তথ্যও তিনি শেয়ার করেছিলেন। সে সময় ছবিটির পোস্টার প্রকাশ করে তিনি সেটিকে দারুণ একটি সিনেমা বলেও মন্তব্য করেছিলেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার এসব পুরোনো পোস্ট ভাইরাল হওয়ার পর নেটিজেনদের অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন। যারা ব্যক্তিগত জীবনে নানা ধরনের বিনোদনমূলক ও রোমান্টিক সিনেমা উপভোগ করেন, তারা কীভাবে দেশের নাটকে প্রেমের গল্পের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেন—এমন প্রশ্নও তুলছেন অনেকে। কেউ কেউ এটিকে নিছক আলোচনায় আসার একটি কৌশল হিসেবেও দেখছেন। তবে নিজের ফেসবুক পোস্ট ও এ সম্পর্কিত সমালোচনার বিষয়ে ওই আইনজীবীর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত সুনির্দিষ্ট কোনো প্রতিক্রিয়া বা ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
গত বৃহস্পতিবার জনস্বার্থে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো ওই আইনি নোটিশে নাটকে প্রেম-রোমান্সের অতিমাত্রিক উপস্থাপন নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। নোটিশের প্রাপক হিসেবে রাখা হয়েছে মন্ত্রিপরিষদ সচিব, তথ্য ও সম্প্রচার সচিব, সংস্কৃতিবিষয়ক সচিব এবং বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডের চেয়ারম্যানকে। নোটিশদাতার ভাষ্যমতে, বর্তমান সময়ে টেলিভিশন নাটক ও চলচ্চিত্রে পরকীয়া কিংবা বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের চিত্র যেভাবে ফুটিয়ে তোলা হচ্ছে, তাতে সামাজিক ও পারিবারিক মূল্যবোধ দারুণভাবে ক্ষুণ্ন হচ্ছে।
এ ধরনের কনটেন্ট তরুণ প্রজন্ম ও শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা থেকে দূরে সরিয়ে দিচ্ছে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে। আইনি পদক্ষেপে বলা হয়েছে, সংবিধানের ২১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য এবং ২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জাতীয় সংস্কৃতি রক্ষা করা নাগরিকদের দায়িত্ব। একই সঙ্গে বাক্স্বাধীনতার ওপর শালীনতা ও নৈতিকতার স্বার্থে যুক্তিসংগত বিধিনিষেধের কথা সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে রয়েছে বলেও যুক্তি দেখানো হয়েছে।
প্রেমের গল্পের বাইরে বিজ্ঞান, শিক্ষা, ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধ এবং প্রতিরক্ষাভিত্তিক মানসম্মত কনটেন্ট নির্মাণের ওপর জোর দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে নোটিশে। আগামী ১০ দিনের মধ্যে এ বিষয়ে প্রশাসনিক পদক্ষেপ না নিলে উচ্চ আদালতের দারস্থ হয়ে রিট পিটিশন দায়ের করা হবে বলেও সেখানে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়েছে।



