খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৯ই জুলাই ২০২৬, ৭:৫৪ এএম
কক্সবাজারের উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রী ও এক শিশু সন্তানকে নৃশংসভাবে হত্যার অভিযোগ উঠেছে এক রোহিঙ্গা ব্যক্তির বিরুদ্ধে। একই ঘটনায় তাদের আরেক সন্তান গুরুতর আহত হয়েছে এবং বর্তমানে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ঘটনার পর অভিযুক্ত ব্যক্তি পালিয়ে যাওয়ায় তাকে গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অভিযান চালাচ্ছে।
বুধবার (৮ জুলাই) দিবাগত রাত প্রায় দেড়টার দিকে উখিয়ার কুতুপালং ৬ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বি ব্লকে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন এহেছানুল হকের স্ত্রী শহীদা নুর ওরফে সুফিয়া (৩০) এবং তাদের পাঁচ বছর বয়সী ছেলে মোহাম্মদ শামীম। আহত বড় ছেলে মো. আফছার ওরফে বাপ্পী (১৪) গুরুতর অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার রাতে পারিবারিক বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়। অভিযোগ অনুযায়ী, এহেছানুল হক ধারালো দা দিয়ে প্রথমে স্ত্রীকে আঘাত করেন। পরে দুই সন্তানকেও কুপিয়ে গুরুতর জখম করেন। ঘটনাস্থলেই শহীদা নুর ও শিশু শামীমের মৃত্যু হয়। বড় ছেলে আফছার গুরুতর আহত অবস্থায় প্রাণে বেঁচে যায়।
কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্পের মাঝি মোহাম্মদ হুসাইন জানান, আশপাশের বাসিন্দারা চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে ছুটে যান। তখন রক্তাক্ত অবস্থায় আহত আফছারকে উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় রোহিঙ্গাদের সহায়তায় প্রথমে তাকে কুতুপালং এমএসএফ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পর অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত এহেছানুল হক ক্যাম্প ছেড়ে পালিয়ে যান। তার অবস্থান শনাক্ত করতে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা বাহিনী কাজ শুরু করেছে। ক্যাম্পজুড়ে নজরদারিও বাড়ানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুজিবুর রহমান বলেন, নিহত দুইজনের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে এবং পলাতক অভিযুক্তকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলো বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শরণার্থী বসতি। বিপুল সংখ্যক মানুষের বসবাস, সীমিত সুযোগ-সুবিধা এবং নানা সামাজিক ও পারিবারিক সংকটের কারণে সেখানে মাঝেমধ্যে সহিংস ঘটনার খবর সামনে আসে। তবে প্রতিটি ঘটনার ক্ষেত্রে পুলিশ, ক্যাম্প প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা সংস্থাগুলো তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে।
এই হত্যাকাণ্ডে ক্যাম্পজুড়ে শোক ও উদ্বেগের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনার দ্রুত তদন্ত এবং অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে আহত কিশোর আফছারের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করার আহ্বানও জানিয়েছেন তারা।
মন্তব্য