লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ঢুকে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা জুয়েল হোসেন নিরবকে বেধড়ক পেটানোর ঘটনায় অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা শহিদুল ইসলাম সাহেদকে দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
সোমবার বিকেলে দালাল বাজার ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক লোকমান হোসেন জয় এবং সদস্য সচিব ইকরাম মাহমুদ ফাহাদের যৌথ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। এতে সাহেদকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব ধরনের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড থেকে স্থায়ীভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্ত শহিদুল ইসলাম সাহেদ দালাল বাজার ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী হিসেবে স্থানীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন।
এর আগে রোববার রাতে সদর হাসপাতালের ভেতর নজিরবিহীন এ হামলার ঘটনা ঘটে। আহত জুয়েল হোসেন নিরব লক্ষ্মীপুর পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের সিনিয়র সহ-সভাপতি। হাসপাতাল কর্মী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, বিকেলে একটি ব্যবহৃত মোবাইল ফোন কেনাবেচাকে কেন্দ্র করে সাহেদ ও জুয়েলের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। পরে সেখান থেকে আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে প্রাথমিক চিকিৎসার উদ্দেশ্যে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে আসেন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা জুয়েল।
তবে ঘটনার এখানেই শেষ হয়নি। জুয়েল হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছেন জানতে পেরে সাহেদ তাঁর অনুসারীদের দলবল নিয়ে সেখানে চড়াও হন। হামলার মুখে প্রাণ বাঁচাতে জুয়েল তড়িঘড়ি করে হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ঢুকে পড়েন। কিন্তু সেখানেও নিস্তার মেলেনি। সাহেদ ও তাঁর সমর্থকেরা হাসপাতালের প্রশাসনিক শৃঙ্খলা তোয়াক্কা না করে জরুরি বিভাগের কক্ষেই ঢুকে পড়েন।
জরুরি বিভাগের ভেতর জুয়েলকে প্লাস্টিকের চেয়ার তুলে নিয়ে পিটানোর পাশাপাশি এলাপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে রক্তাক্ত জখম করা হয়। এতে পুরো জরুরি বিভাগে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ রোগীরা চরম আতঙ্কের মধ্যে পড়েন। হামলার এ পুরো দৃশ্যটি সিসিটিভি ক্যামেরা ও উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীদের মোবাইলে ধারণ হয়। পরবর্তীতে তা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় ওঠে।
মারধরে মারাত্মক আহত ও রক্তাক্ত জুয়েলকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হলেও শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা শহিদুল ইসলাম সাহেদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ঘটনার পর থেকে তিনি আত্মগোপনে থাকায় তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সংগঠনের এমন কঠোর পদক্ষেপের বিষয়ে জেলা ছাত্রদলের নেতা হাসিবুর রহমান অভি জানান, দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ এবং হাসপাতালে ঢুকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার দায়ে সাহেদকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব ধরনের কার্যক্রম থেকে অবিলম্বে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তাঁর মতো কোনো অপরাধীর সাথে ছাত্রদলের কোনো ধরনের সম্পর্ক নেই এবং আইন অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণে প্রশাসনকে সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।


