লালবাগে পাওনা টাকার জেরে বন্ধুকে খুন, মাটি খুঁড়ে লাশ উদ্ধার

পাওনা টাকা পরিশোধ নিয়ে পারিবারিক বন্ধুর সাথে বিরোধের জের ধরে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন পুরান ঢাকার এক ব্যবসায়ী। লালবাগের ৯ নম্বর বিসি দাস স্ট্রিটের একটি ভবনের পাশ থেকে নিখোঁজের তিন দিন পর শেখ ওয়াসিম ওরফে রনি (৪৭) নামে ওই ব্যবসায়ীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার ভোরে মাটির নিচে প্রায় আট বস্তা বালু ও মাটি দিয়ে চাপা দেওয়া অবস্থায় মরদেহটি পাওয়া যায়। এই নৃশংস ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে নিহতের বন্ধু মোহাম্মদ মাসুম চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
নিহত রনি যাত্রাবাড়ীর শনির আখড়া এলাকায় স্ত্রী ও তিন কন্যাকে নিয়ে বসবাস করতেন। লালবাগ থানা পুলিশ জানায়, গত মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তিন লাখ টাকা ধার পরিশোধের বিষেয়ে চেক দেওয়ার কথা ছিল বন্ধু মাসুমের। তবে ওই দিন দুপুর গড়াতেই রনির ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বন্ধ পান পরিবারের সদস্যরা। নিখোঁজের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর স্বজনরা সম্ভাব্য নানা স্থানে সন্ধান করতে থাকেন। একপর্যায়ে তাঁরা লালবাগে মাসুমের বাসভবনে গিয়ে তাঁর স্ত্রীর সাথে কথা বললে তিনি জানান, রনি তাঁদের বাসায় এসেছিলেন এবং কিছু সময় পর চলেও গেছেন। কোনো উপায় না দেখে নিহতের পরিবার লালবাগ থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করে।
সাধারণ ডায়েরির সূত্র ধরে তদন্তে নেমে পুলিশ মাসুমকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। একপর্যায়ে মাসুম নিজের অপরাধ স্বীকার করেন এবং বিস্তারিত তথ্যপ্রমাণ তুলে ধরেন। তাঁর স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে পুলিশ লালবাগের ওই ভবনে তল্লাশি চালাতে যায়। দীর্ঘ তল্লাশি শেষে শুক্রবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ভবনের নিচতলায় ইমিটেশন জুয়েলারির কারখানার পাশে মাটি খুঁড়ে রনির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহের হাত-পা প্লাস্টিকের রশি দিয়ে শক্ত করে বাঁধা ছিল এবং মুখে প্যাঁচানো ছিল পলিথিন। ডিবি পুলিশ ও সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিটের সহায়তায় মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
নিহতের পরিবারের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় আট মাস আগে রনির কাছ থেকে তিন লাখ টাকা ধার নেন মাসুম। কিন্তু সময়মতো সেই অর্থ ফেরত না দেওয়ায় তাঁদের মধ্যে তিক্ততার সৃষ্টি হয়। পাওনা টাকা দাবি করতে মঙ্গলবার দুপুরে মাসুমের কারখানায় গিয়েছিলেন রনি। সেখানে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। মাসুম সজোরে রনির মাথায় আঘাত করলে তিনি সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন। এরপরই হত্যাকাণ্ড গোপন করতে রনির মরদেহ কারখানার পাশে গর্ত খুঁড়ে পুতে রাখা হয়।
ডিএমপির লালবাগ বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) তালেবুর রহমান জানান, নিখোঁজের জিডি তদন্তের সূত্র ধরেই পুলিশ দ্রুত অপরাধীকে সনাক্ত করতে সক্ষম হয়। অভিযুক্ত মাসুমকে গ্রেপ্তার করে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় লালবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। ঘটনায় অন্য কারও ইন্ধন বা সম্পৃক্ততা ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে বিস্তৃত তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
Tags :

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

সর্বশেষ খবর

খবরওয়ালা একটি বিশ্বস্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল, যেখানে বাংলাদেশ ও বিশ্বের সর্বশেষ সংবাদ ও আপডেট প্রকাশ করা হয়। রাজনীতি, জাতীয় ও স্থানীয় সংবাদ, শিক্ষা, খেলাধুলা, ব্যবসা, বিনোদন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে পাঠকদের জন্য রয়েছে নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সংবাদ পরিবেশন।

© ২০২৬ খবরওয়ালা। সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত।