জার্মান কোচ হান্সি ফ্লিকের অধীনে স্প্যানিশ ফুটবলে দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছে বার্সেলোনা। লা লিগায় নিজেদের প্রথম আট ম্যাচেই জয় তুলে নিয়ে ক্লাবটির ইতিহাসে সেরা সূচনার রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছে কাতালানরা। ঘরের মাঠ স্পটিফাই ক্যাম্প ন্যুতে গেতাফেকে ৩-০ গোলে হারিয়ে এই কৃতিত্ব অর্জন করেছে তারা। এবার সামনে আরও বড় চ্যালেঞ্জ—লা লিগার ইতিহাসে কোনো দলের মৌসুমের প্রথম নয় ম্যাচে টানা জয়ের রেকর্ড স্পর্শ করা।
চলতি মৌসুমে শুরু থেকেই ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দেখাচ্ছে ফ্লিকের দল। প্রথম আট ম্যাচের প্রতিটিতে জয় পাওয়ার মধ্য দিয়ে বার্সেলোনা নিজেদের আগের একটি রেকর্ডের সমান সাফল্য অর্জন করেছে। এর আগে ২০১৩-১৪ মৌসুমে আর্জেন্টাইন কোচ জেরার্দো ‘টাটা’ মার্তিনোর অধীনে লিগের প্রথম আট ম্যাচেই জিতেছিল ক্লাবটি। এক যুগেরও বেশি সময় পর সেই কৃতিত্ব আবারও অর্জন করল বার্সেলোনা।
আন্তর্জাতিক বিরতির আগে সাতটি ম্যাচে জয় পেয়েছিল দলটি। এলচে, অ্যাথলেটিক ক্লাব, রায়ো ভায়েকানো, ভ্যালেন্সিয়া, লেভান্তে, রেসিং সান্তানদের ও সেভিয়ার বিপক্ষে জয় নিয়ে লিগের পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছিল তারা। বিরতির পর মাঠে ফিরে গেতাফের বিপক্ষেও জয় তুলে নিয়ে নিজেদের আধিপত্য ধরে রেখেছে বার্সেলোনা।
টানা আট ম্যাচে জয় পাওয়ার ফলে দলের আত্মবিশ্বাস যেমন বেড়েছে, তেমনি শিরোপার দৌড়েও শক্ত অবস্থান তৈরি করার সুযোগ পেয়েছে কাতালান ক্লাবটি। দীর্ঘ লিগ মৌসুমে শুরু থেকেই পয়েন্ট সংগ্রহ করা গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর সঙ্গে ব্যবধান গড়ে তোলার ক্ষেত্রে ধারাবাহিক জয় বড় ভূমিকা রাখে। তবে মৌসুমের শুরুতে ভালো ফল পাওয়ার পাশাপাশি পুরো আসরজুড়ে সেই ছন্দ ধরে রাখাও জরুরি।
এখন বার্সেলোনার সামনে রয়েছে লা লিগার ইতিহাসে জায়গা করে নেওয়ার আরেকটি সুযোগ। প্রতিযোগিতাটির ইতিহাসে মৌসুমের প্রথম নয় ম্যাচে টানা জয়ের রেকর্ড রয়েছে রিয়াল মাদ্রিদের। ১৯৬৮-৬৯ মৌসুমে লিগের প্রথম নয়টি ম্যাচেই জয় পেয়েছিল স্প্যানিশ ক্লাবটি। দীর্ঘদিন ধরে অক্ষত থাকা সেই রেকর্ড এবার ছুঁয়ে দেখার সুযোগ পাচ্ছে বার্সেলোনা।
আগামী সপ্তাহান্তে লা কারতুজা স্টেডিয়ামে রিয়াল বেতিসের মুখোমুখি হবে ফ্লিকের শিষ্যরা। ওই ম্যাচে জয় পেলে লিগে টানা নয়টি জয়ের কৃতিত্ব অর্জন করবে বার্সেলোনা। একই সঙ্গে ১৯৬৮-৬৯ মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদের গড়া ঐতিহাসিক রেকর্ডেও ভাগ বসাবে দলটি।
বেতিসের বিপক্ষে ম্যাচটি তাই বার্সেলোনার জন্য কেবল আরেকটি লিগ ম্যাচ নয়; এটি হতে পারে ক্লাবের রেকর্ডবুকে নতুন একটি অর্জন যোগ করার সুযোগ। তবে প্রতিপক্ষের মাঠে জয় পেতে হলে নিজেদের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পাশাপাশি ম্যাচের চাপও সামলাতে হবে।
ফ্লিকের অধীনে বার্সেলোনার এই সাফল্য ক্লাবটির সমর্থকদের প্রত্যাশা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। টানা আট জয়ের পর এখন সবার নজর পরবর্তী ম্যাচের দিকে। বেতিসকে হারাতে পারলে শুধু ব্যক্তিগত মৌসুমের জয়যাত্রাই দীর্ঘ হবে না, লা লিগার ইতিহাসের অন্যতম উল্লেখযোগ্য রেকর্ডের কাছেও পৌঁছে যাবে কাতালানরা।


