খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: ৯ই আগস্ট ২০২৬, ৩:৬ পিএম
মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার জাগীর এলাকার ধলেশ্বরী মাঠের শহীদ মিনার থেকে শিহাব নামে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার (৯ আগস্ট) সকালে লাশটি উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড—এ নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
নিহত শিহাব মানিকগঞ্জ পৌরসভার হিজুলি এলাকার সেলিম মিয়ার ছেলে। পরিবারের সদস্যদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শিহাব মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডের কাঁচাবাজারে মাছ কাটার কাজ করত। বয়স কম হলেও পরিবারের সহায়তায় সে বিভিন্ন কাজ করে জীবিকা নির্বাহে ভূমিকা রাখত।
পুলিশ ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েক দিন ধরে শিহাব নিয়মিত বাড়িতে থাকছিল না। সে প্রায়ই বন্ধুদের সঙ্গে বাইরে সময় কাটাত এবং কখনো কখনো রাতও বাড়ির বাইরে কাটাত। ঘটনার আগের রাতেও বন্ধুদের সঙ্গে বাইরে যাওয়ার কথা বলে সে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল।
শিহাবের মা জানান, ওই রাতে ছেলে বেউথা এলাকায় বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে তাঁর কাছে ৫০০ টাকা চেয়েছিল। কিন্তু বাড়িতে ওই পরিমাণ টাকা না থাকায় তিনি ছেলেকে টাকা দিতে পারেননি। এতে শিহাব মন খারাপ করে বন্ধুদের সঙ্গে বাইরে চলে যায়। এরপর রাতে সে আর বাড়িতে ফেরেনি।
পরদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে শিহাবের মা জানতে পারেন, জাগীরের ধলেশ্বরী মাঠের শহীদ মিনারের একটি স্তম্ভে তাঁর ছেলের লাশ ঝুলছে। খবর পেয়ে স্বজনেরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।
ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় স্থানীয় কয়েকজন যুবকের নাম উল্লেখ করে অভিযোগ করেছেন শিহাবের মা। তাঁর অভিযোগ, ঘটনার পেছনে ওই যুবকদের কোনো ভূমিকা থাকতে পারে। তবে অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টি যাচাই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ বলছে, প্রাথমিক অবস্থায় শিহাবের মৃত্যু আত্মহত্যা নাকি হত্যাকাণ্ড—তা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি, পরিবারের বক্তব্য এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত চলছে। পাশাপাশি মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনির হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড নাকি আত্মহত্যা, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তের অন্যান্য তথ্য পাওয়ার পর মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।
কিশোরটির মৃত্যু ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যেও নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বাড়ির বাইরে রাত কাটানো, ঘটনার আগের রাতে বন্ধুদের সঙ্গে বের হওয়া এবং শহীদ মিনারে তার লাশ পাওয়ার বিষয়গুলো তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে এসব বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে পুলিশের তদন্ত ও ময়নাতদন্তের ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।
এ ঘটনায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তদন্তে কারও সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্তব্য