বগুড়ার শাজাহানপুরে বগুড়া-ঢাকা মহাসড়কে মাইক্রোবাস ও ভুট্টাবোঝাই ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে চালকসহ দুজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় মাইক্রোবাসে থাকা আরও সাতজন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার ভোররাত ৪টার দিকে উপজেলার নয়মাইল এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে।
নিহত দুজন হলেন জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার গোপিনাথপুর গ্রামের ফারুক মণ্ডলের ছেলে ও মাইক্রোবাসচালক ফেরদৌস মণ্ডল (২৫) এবং একই উপজেলার বারইল গ্রামের হাসের আলীর ছেলে জুবায়েদুল ইসলাম (৩০)। জুবায়েদুল মাইক্রোবাসটির যাত্রী ছিলেন।
শেরপুর হাইওয়ে পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ আইয়ুব আলী দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। ঘটনাস্থল থেকেই নিহত দুজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। আহত সাতজনকে উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা গেছে, ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিদেশফেরত এক যাত্রীসহ তাঁর সাত স্বজন একটি মাইক্রোবাসে করে জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে ফিরছিলেন। ভোরের দিকে মাইক্রোবাসটি নয়মাইল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছালে সেটি মহাসড়কের বিপরীত লেনে ঢুকে পড়ে।
এ সময় বিপরীত দিক থেকে একটি ভুট্টাবোঝাই ট্রাক আসছিল। মাইক্রোবাসটি ট্রাকটির সামনে চলে গেলে দুই যানবাহনের মধ্যে সরাসরি মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের তীব্রতায় মাইক্রোবাসটির সামনের অংশ দুমড়েমুচড়ে যায়। ঘটনাস্থলেই চালক ফেরদৌস মণ্ডল ও যাত্রী জুবায়েদুল ইসলামের মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনার পর মহাসড়কে কিছু সময়ের জন্য আতঙ্ক ও যান চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন দুটি সরিয়ে নেয়। আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়।
হাইওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ ও পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া চলছে। তবে মাইক্রোবাসটি কীভাবে বিপরীত লেনে প্রবেশ করেছিল, সে বিষয়ে তদন্তের পর বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে।
ভোররাতে দীর্ঘপথে চলাচলের সময় সড়কের লেন মেনে চলা এবং চালকের সতর্কতা বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বিপরীত লেনে যানবাহন ঢুকে পড়লে মুখোমুখি সংঘর্ষ এড়ানোর সুযোগ অনেকটাই কমে যায়। নয়মাইলের এই দুর্ঘটনাতেও মুহূর্তের সংঘর্ষে প্রাণহানি ঘটে এবং একই সঙ্গে আহত হন মাইক্রোবাসের আরও সাত যাত্রী।


