শ্রীলঙ্কার অলরাউন্ডার দাসুন শানাকা ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (সিপিএল) ব্যাট হাতে নতুন ইতিহাস গড়েছেন। সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস প্যাট্রিয়টসের হয়ে খেলতে নেমে মাত্র ৩৯ বলে শতক পূর্ণ করে টুর্নামেন্টটির ইতিহাসে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড নিজের করে নিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার সেন্ট লুসিয়া কিংসের বিপক্ষে লিগ পর্বের ম্যাচে শানাকার ব্যাটিং তাণ্ডবে প্যাট্রিয়টস বড় সংগ্রহ গড়ে। ইনিংসের শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থেকে ৪৩ বলে ১২১ রান করেন ৩৪ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার। তার ইনিংসে ছিল আটটি চার ও ১২টি ছক্কা। অর্থাৎ ২০টি বাউন্ডারি থেকেই তিনি করেন ১০৪ রান।
শানাকার ৩৯ বলে করা শতকের আগে সিপিএলে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড যৌথভাবে ছিল আন্দ্রে রাসেল ও টিম সাইফার্টের দখলে। দুজনেই ৪০ বলে শতক করেছিলেন। এক বল কম খেলে শানাকা সেই রেকর্ড পেছনে ফেলেন।
ম্যাচটিতে শানাকার সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন আন্দ্রে ফ্লেচার। তিনি ৩৮ বলে ৬৪ রান করেন। দুজনের ব্যাটে ভর করে সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস প্যাট্রিয়টস নির্ধারিত ওভারে ২৩৫ রান তোলে, হারায় মাত্র চারটি উইকেট।
বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে সেন্ট লুসিয়া কিংস শুরু থেকেই চাপে পড়ে যায়। প্যাট্রিয়টসের বোলারদের সামনে তাদের ব্যাটিং লাইনআপ দাঁড়াতেই পারেনি। মাত্র ১৩.৫ ওভারে ৯৮ রানে অলআউট হয়ে যায় দলটি। ফলে শানাকার দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি বড় ব্যবধানের জয়ও পায় প্যাট্রিয়টস।
তবে এই রেকর্ড গড়ার পথে শানাকার পরিকল্পনা ছিল শুরুতে বেশ সংযত। ম্যাচ শেষে তিনি জানান, প্রথম ৩০ বল পর্যন্ত তিনি মূলত বলের মান, ফিল্ডিংয়ের অবস্থান এবং প্রতিপক্ষের বোলাররা কী সুযোগ দিচ্ছেন, সেদিকেই নজর রেখেছিলেন। উইকেট ভালো বুঝতে পারার পর তিনি আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন।
শানাকার বক্তব্য অনুযায়ী, শুরুতে ঝুঁকি না নিয়ে পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করেছিলেন তিনি। পরে নিজের পছন্দের জায়গায় বল পেলে বড় শট খেলার সিদ্ধান্ত নেন। সেদিন পরিস্থিতি এবং ভাগ্য—দুটিই তার পক্ষে ছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
শানাকার জন্য এই ইনিংসটি আরও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ আগের ম্যাচেও তিনি ব্যাট হাতে কার্যকর ভূমিকা রেখেছিলেন। অ্যান্টিগা অ্যান্ড বারবুডা ফ্যালকনসের বিপক্ষে সাত নম্বরে ব্যাট করে অপরাজিত ৪৯ রান করেছিলেন তিনি। সেই ম্যাচের পর এবার তাকে ব্যাটিং অর্ডারে ওপরে তুলে তিন নম্বরে পাঠানো হয়।
তাকে কেন তিন নম্বরে খেলানো হলো, এমন প্রশ্নের জবাবে শানাকা জানান, প্রধান কোচ মালোনান রঙ্গরাজন এবং অধিনায়ক জেসন হোল্ডার দুজনেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। ব্যাটিং অর্ডারে ওপরে উঠে পাওয়া সুযোগটিকে তিনি কাজে লাগিয়েছেন পুরোপুরি।
অধিনায়ক হোল্ডারও শানাকার প্রশংসা করেছেন। তার মতে, সাম্প্রতিক সময়ে শানাকা ভালো ছন্দে থাকায় দল তাকে যতটা সম্ভব কাজে লাগাতে চেয়েছিল। ম্যাচের পরিস্থিতিও তার অনুকূলে ছিল এবং তিনি পাওয়া প্রতিটি সুযোগ কাজে লাগিয়েছেন।
হোল্ডার বিশেষভাবে শানাকার ইনিংসের গতি পরিবর্তনের বিষয়টি তুলে ধরেন। শুরুতে সময় নিয়ে ব্যাট করার পর ইনিংসের শেষ দিকে শানাকা যেভাবে বিধ্বংসী হয়ে ওঠেন, সেটিকেই তার ব্যাটিংয়ের অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য হিসেবে দেখছেন অধিনায়ক।
সিপিএলের দ্রুততম শতকের রেকর্ড ভাঙার পাশাপাশি ১২১ রানের অপরাজিত ইনিংস শানাকার সাম্প্রতিক ফর্মকেও সামনে নিয়ে এসেছে। তিন নম্বরে সুযোগ পাওয়ার পর তিনি যেভাবে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেন, তা প্যাট্রিয়টসের বড় জয়ের ভিতও গড়ে দেয়।


