অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে ধবলধোলাই এড়ানোর লড়াইয়ে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েছে বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। ব্রিসবেনে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে ১৭২ রানেই গুটিয়ে গেছে নিগার সুলতানা জ্যোতির দল। শারমিন আক্তার ও স্বর্ণা আক্তারের অর্ধশতক বাংলাদেশের ইনিংসে লড়াইয়ের আশা জাগালেও অন্য ব্যাটারদের ব্যর্থতায় বড় সংগ্রহ গড়া সম্ভব হয়নি।
ম্যাচটিতে বিশেষ নজর ছিল সোবহানা মোস্তারির দিকে। আগের ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম নারী ব্যাটার হিসেবে সেঞ্চুরি করে ইতিহাস গড়েছিলেন তিনি। ব্রিসবেনে দ্বিতীয় ম্যাচে তাঁর ব্যাট থেকে এসেছিল দুর্দান্ত ১১৮ রান। তবে একই মাঠে তৃতীয় ম্যাচে সেই সাফল্যের পুনরাবৃত্তি করতে পারেননি মোস্তারি। চতুর্থ ব্যাটার হিসেবে আউট হওয়ার আগে করেছেন মাত্র ৯ রান।
বাংলাদেশের ব্যাটিং বিপর্যয়ের শুরুটা হয় ইনিংসের প্রথম ভাগেই। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ১৮ রানের মধ্যে তিনটি উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে দলটি। দুই ওপেনার মুর্শিদা খাতুন ও শারমিন সুলতানা যথাক্রমে ১ ও ৬ রান করে ফিরে যান। এরপর অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতিও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। তাঁর ব্যাট থেকে আসে মাত্র ৩ রান।
দ্রুত তিন উইকেট হারানোর পর ইনিংস সামলানোর দায়িত্ব পড়ে শারমিন আক্তার ও সোবহানা মোস্তারির ওপর। আগের ম্যাচে সেঞ্চুরি করায় মোস্তারিকে ঘিরে প্রত্যাশা ছিল বেশি। কিন্তু এবার ব্যাট হাতে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিতে পারেননি তিনি। ৯ রান করে তাঁর বিদায়ে ৪৫ রানে চার উইকেট হারিয়ে আরও বিপাকে পড়ে বাংলাদেশ।
সেখান থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন শারমিন ও স্বর্ণা আক্তার। পঞ্চম উইকেটে দুজন গড়েন ৫৪ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি। এই জুটিতে বাংলাদেশের ইনিংসে কিছুটা স্থিতি ফেরে। শারমিন ব্যক্তিগত ৫০ রান করে আউট হলে ভাঙে তাঁদের প্রতিরোধ। তাঁর অর্ধশতক দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও জুটিটি আরও বড় করতে না পারায় প্রত্যাশিত গতি পায়নি বাংলাদেশের ইনিংস।
শারমিনের বিদায়ের পর আবারও নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে বাংলাদেশ। একের পর এক ব্যাটার সাজঘরে ফিরলেও অন্য প্রান্তে লড়াই চালিয়ে যান স্বর্ণা। শেষ পর্যন্ত দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ৫৪ রান করেন তিনি। তাঁর ইনিংসের সুবাদেই ১৭২ রানে পৌঁছাতে পারে বাংলাদেশ। তবে সতীর্থদের কাছ থেকে পর্যাপ্ত সহযোগিতা না পাওয়ায় সংগ্রহ আরও বাড়ানো সম্ভব হয়নি।
শারমিন ও স্বর্ণার বাইরে দুই অঙ্কের রান করেছেন কেবল রাবেয়া খাতুন ও দিশা বিশ্বাস। দুজনই করেন ১৩ রান করে। দিশা অপরাজিত থাকলেও অন্য প্রান্তে উইকেটের পতন থামেনি। ফলে বাংলাদেশের ইনিংস শেষ হয় ১৭২ রানে।
অস্ট্রেলিয়ার হয়ে বল হাতে সবচেয়ে সফল ছিলেন মেগান শুট। মাত্র ১৬ রান খরচ করে চারটি উইকেট নেন তিনি। তাঁর নিয়ন্ত্রিত বোলিং বাংলাদেশের ব্যাটারদের ওপর চাপ তৈরি করে এবং প্রতিপক্ষকে বড় জুটি গড়ার সুযোগ থেকে দূরে রাখে।
আগের ম্যাচে ১১৮ রানের ঐতিহাসিক ইনিংস খেলা মোস্তারির দ্রুত বিদায় বাংলাদেশের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়ায়। শুরুতেই তিন উইকেট হারানোর পর শারমিন ও স্বর্ণা দলকে সাময়িকভাবে বিপর্যয় থেকে টেনে তুললেও পরবর্তী ব্যাটারদের ব্যর্থতায় সেই প্রচেষ্টা পূর্ণতা পায়নি।
১৭২ রানের সংগ্রহ নিয়ে এখন বাংলাদেশের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই রান রক্ষা করতে হলে বোলারদের শুরু থেকেই কার্যকর হতে হবে এবং দ্রুত উইকেট তুলে নিয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলতে হবে। সিরিজের শেষ ম্যাচে জয় পেলে অন্তত একটি সান্ত্বনার জয় নিয়ে ফিরতে পারবে বাংলাদেশ। আর ব্যাটিংয়ের এই ব্যর্থতার পর ধবলধোলাই এড়াতে বোলারদের দিকেই তাকিয়ে থাকবে দলটি।


