খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬
ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজ সংলগ্ন এলাকায় শনিবার রাতে হঠাৎ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ৮ নম্বর গেটের কাছে অবস্থিত ময়লার স্তূপে সৃষ্ট এই আগুন তাৎক্ষণিকভাবে নিয়ন্ত্রণে আনেন বিমানবন্দরে নিয়োজিত নিজস্ব ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। ফলে বড় ধরনের কোনো ক্ষতির হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে বিমানবন্দর এলাকা।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাত ৯টা ২০ মিনিটের দিকে শাহজালাল বিমানবন্দরের ৮ নম্বর গেটসংলগ্ন কার্গো ভিলেজ এলাকায় আগুনের সূত্রপাত হয়। স্থানটি থেকে হঠাৎ ধোঁয়া উঠতে দেখে দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে যান বিমানবন্দরের ফায়ার ফাইটাররা। ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ কক্ষের কর্তব্যরত কর্মকর্তা রাশেদ বিন খালেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, খবর পাওয়ার পর সাধারণ ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিটও সেখানে পাঠানো হয়। তবে উদ্ধারকারী দলটি পৌঁছানোর আগেই বিমানবন্দরের নিজস্ব টিম কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করায় আগুনের ব্যাপ্তি বাড়েনি। পরবর্তী সময়ে বাইরের ইউনিটগুলো কোনো জ্বলন্ত শিখা দেখতে না পেলেও কার্গো ভিলেজের পাশের ময়লার স্তূপে ধোঁয়া দেখতে পায় এবং পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
প্রাথমিকভাবে ঠিক কী কারণে কিংবা কীভাবে এই অগ্নিকাণ্ড ও ধোঁয়ার সৃষ্টি হয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। ফায়ার সার্ভিসের পর্যবেক্ষণ ও তদন্ত প্রতিবেদন সম্পন্ন হলে বিস্তারিত কারণ জানানো যাবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষ।
গুরুত্বপূর্ণ এই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বারবার কার্গো ও কুরিয়ার এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা বিমানবন্দর ব্যবহারকারী ও ব্যবসায়ীদের চিন্তায় ফেলছে। এর আগে ২০২৩ সালের ১৮ অক্টোবর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে একটি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছিল। সেই আগুনে বিদেশ থেকে আমদানি করে আনা শত শত কোটি টাকার মূল্যবান মালামাল ও নথিপত্র পুড়ে ছাই হয়ে যায়, যা দেশের বাণিজ্য খাতে বড় আঘাত হানে।
একইভাবে সম্প্রতি ২০২৪ সালের ৫ জুন বিমানবন্দরের ৯ নম্বর গেটসংলগ্ন কুরিয়ার শেডেও আগুনের ঘটনা ঘটেছিল। সে সময় পরিস্থিতি সামাল দিতে বিমানবন্দরে থাকা সিভিল অ্যাভিয়েশনের ফায়ার স্কোয়াডের পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের একাধিক টিমকে একযোগে কাজ করতে হয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে একই সংবেদনশীল এলাকায় বারবার এমন অগ্নিকাণ্ডের পুনরাবৃত্তি বিমানবন্দরের সামগ্রিক নিরাপত্তা ও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার আরও আধুনিকীকরণের প্রয়োজনীয়তাকে নতুন করে তুলে ধরছে।