মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার মাদবরচর ইউনিয়নের বাখরেরকান্দি এলাকায় শম্পা খাতুন (২০) নামে এক তরুণীর লাশ উদ্ধার ও তাঁর এক বছর বয়সি শিশুপুত্র আবির নিখোঁজ হওয়ার নেপথ্যের চাঞ্চল্যকর রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। যৌথ অভিযানে রাজৈর উপজেলা থেকে প্রধান অভিযুক্ত ফারুক মোল্লাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ফারুক উপজেলার বাখরেরকান্দি এলাকার রতন মোল্লার ছেলে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, নিহত শম্পা খাতুনের স্বামী একটি আইনি মামলায় কারাগারে থাকায় মাদারীপুর আদালত প্রাঙ্গণে অভিযুক্ত ফারুকের সঙ্গে তাঁর প্রথম পরিচয় হয়। সেই পরিচয়ের সূত্র ধরে দুজনের মধ্যে যোগাযোগ ও সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত বুধবার ফারুক কৌশলে শম্পাকে তাঁর বাখরেরকান্দির বাসায় নিয়ে যান। অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানে শম্পাকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যা করে লাশ কাছের একটি ঝোপের মধ্যে ফেলে রাখা হয়। অপরাধ ঢাকতে শম্পার কোলে থাকা এক বছর বয়সি শিশু আবিরকেও হত্যার পরিকল্পনা করে ঘাতক। পরবর্তীতে শিশুটিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে আড়িয়াল খাঁ সেতুর ওপর থেকে তীব্র স্রোতের নদীতে ফেলে দেওয়া হয়।
গত বুধবার বাখরেরকান্দির একটি ঝোপের কাছ থেকে শম্পার পরিত্যক্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। খবর পেয়ে নাটোরের লালপুর থেকে শিবচর থানায় ছুটে আসেন নিহতের বাবা ছামরুল ইসলাম। তিনি জানান, প্রায় তিন বছর আগে মাদারীপুরের বড় মেহের এলাকার মো. শাহাবুদ্দিন হাওলাদারের সঙ্গে শম্পার বিয়ে হয়েছিল। সন্তানসহ মেয়ের নিখোঁজ ও মৃত্যুর খবর পেয়ে তিনি ভেঙে পড়েন এবং পরদিন বাদী হয়ে শিবচর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলা দায়েরের পর মাদারীপুরের পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমানের নির্দেশনায় শিবচর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. সালাহ উদ্দিন কাদেরের নেতৃত্বে পুলিশ ও র্যাবের একটি যৌথ তদন্ত দল মাঠে নামে। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের সহায়তায় শুক্রবার ভোরে রাজৈর উপজেলায় অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত ফারুককে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ফারুক তরুণীকে ধর্ষণের পর হত্যা করা এবং শিশুকে শ্বাসরোধ করে আড়িয়াল খাঁ নদীতে ফেলে দেওয়ার বিষাদময় বর্ণনা দিয়েছে। ফারুকের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী শিবচরে তাঁর বসতবাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে নিহতের ব্যবহৃত একটি স্বর্ণের নাকফুল ও রুপার চেইন উদ্ধার করা হয়। এছাড়া অপরাধের আলামত ধ্বংসের উদ্দেশ্যে চুলার আগুনে পোড়ানো শম্পার ওড়না ও এক জোড়া জুতা জব্দ করা হয়েছে।
নদীতে ফেলে দেওয়া শিশু আবিরের মরদেহ উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের সম্মিলিত ডুবুরি দল অভিযান শুরু করলেও নদীতে প্রবল স্রোত থাকায় শুক্রবার বিকেলের দিকে সাময়িকভাবে উদ্ধারকাজ স্থগিত রাখা হয়। শিবচর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. সালাহ উদ্দিন কাদের জানিয়েছেন, এটি সম্পূর্ণ ক্লুলেস একটি মামলা ছিল। তবে প্রযুক্তিগত দক্ষতার মাধ্যমে দ্রুত সময়ের মধ্যে আসামি গ্রেপ্তার ও গুরুত্বপূর্ণ আলামত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। এর আগেও গাড়ি চুরির অভিযোগে ফারুককে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের পেছনে অন্য কোনো সহযোগী বা কারণ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে অধিকতর তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।


